মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

ঘোষণা -:
নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালযয়ে আবেদিত। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩, নিউজ৭১অনলাইন সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে মোবাইল ঃ- ০১৭১৪২৭৭৬৮,০১৭১০-৯৫৯৮৯৫ অথবা  [email protected] ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে পারেন

ad 02



মহম্মদপুরে বৃহৎ ঘোড় দৌড় মেলা অনুষ্ঠিত

মহম্মদপুরে বৃহৎ ঘোড় দৌড় মেলা অনুষ্ঠিত



মাহামুদুন নবী (মাগুরা) :–
মাগুরা মহম্মদপুরের বড়রিয়া ঘোড়দৌড় মেলাকে কেন্দ্র করে  মানুষের উৎসব-আনন্দ ছিলো ষোলআনা। গ্রামের মেঠো পথ। সারি সারি মানুষ আসছেন ওই মেঠো পথ বেঁয়ে। আসছেন অফুরন্ত উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্লতায়। মানুষের চোখে-মুখে অন্যরকম আনন্দ-উৎসবের প্রতিচ্ছবি। বিভিন্ন মেঠো পথ, মাঠ ও রাস্তা দিয়ে দলবেঁধে মানুষ আসছেন। সবার গন্তব্যই অভীন্ন। কানায় কানায় পূর্ণ বিশাল প্রাঙ্গণ।

আজ শুক্রবার দুপুরে এরকম দৃশ্যই চোখে পড়ে মাগুরা  মহম্মদপুরের বড়রিয়া গ্রামে। খুলনা বিভাগের শতবর্ষী ও সর্ববৃহৎ ঘোড় দৌড় মেলাকে ঘিরে আনন্দ মিতালিতে ওই অবস্থা সৃষ্টি হয় সেখানে।
এদিন দুপুর সোয়া দুইটার সময় দেখা গেলো ঘোড় দৌড়ের নির্ধারিত মাঠে দুই লাইনে অগণিত মানুষ সারিবদ্ধভাবে জড়ো হয়েছেন। অভিভাবক কিসিমের ব্যক্তিরা তাদের শিশুদরেকে ঘোড় দৌড় দেখানোর জন্য সাথে করে নিয়ে এসছেন। এসছেন সব শ্রেণি ও বয়সের মানুষ। কাঁচা রাস্তার অভাবে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় এখনো টিকে আছে উপজেলা বড়রিয়া গ্রামে। প্রতি বছর তাই ২৮ পৌষ এখানে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বসে বিশাল মেলা। যা থাকে মেলার আগে ও পরে টানা এক সপ্তাহ।
এ বছর ঘোড় দৌড়ে অংশ নেয় ১৬টি ঘোড়া। দুপুর সোয়া দ্ইুটায় আরম্ভ হয় ঘোড় দৌড়। আগত আমুদে দর্শকরা উৎসব আনেন্দ দু’চোখ ভরে উপভোগ করেন ঘোড় দৌড়। ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় মহম্মদপুরের মাঝপাড়ার আক্তার সর্দারের ঘোড়া প্রথম, মাগুরা ধলহরা হারুনের ঘোড়া দ্বিতীয় এবং নাওভাঙ্গার হাবিবর কাজীর ঘোড়া তৃতীয় স্থান দখল করে পুরস্কার পান। অংশ নেয়া অন্য ঘোড়ার মালিকদেরকেও দেয়া হয় শুভেচ্ছা পুরস্কার।
উপজেলার বড়রিয়ার এ মেলাকে ঘিরে নব-আনন্দে মেতে ওঠেন উপজেলার অনন্ত: ৫০ গ্রামের মানুষ। ঘরে ঘরে চলে নানা রকম পিঠা-পুলি, ক্ষীর-পায়েস তৈরি। হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামের পর গ্রাম। মেলা প্রাঙ্গণে নাগর দোলায় চড়ে আনন্দ উপভোগের দৃশ্য ছিলো সত্যিই উপভোগ্য। সারিবদ্ধ বোঝাই ট্রাক থেকে বাহারি সব ফার্নিচার নামিয়ে সাজানো হয়েছে স্টল। নানা ধরণের খেলনা সামগ্রী ও প্রসাধণী থরে থরে সাজিয়েন বিক্রেতারা। মিষ্টি-মিঠাই তৈরি ও বিক্রির ধূম পড়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানের লাখো মানুষের সমাগমে মহম্মদপুরের বড়রিয়া হয়ে ওঠে উৎসব মুখর। ধনী-গরিব-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয় মেলা মাঠ। নবসাজে সজ্জিত হয় মেলা প্রাঙ্গণ। উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মেলা মাঠ অবস্থিত।
মেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : উপজেলার আর ১০টি গ্রামের মতই বড়রিয়া। উল্লেখযোগ্য কোন বৈশিষ্ঠ না থাকলেও গ্রামটি খুবই বড়ো। এ গ্রামেরই সানু সরদার নামের এক আমুদে ব্যক্তি মেলার প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় দু’শ বছর আগে মাগুরা সদর উপজেলার বাহরবা গ্রামে প্রতি বছরের ২৮ পৌষ অনুষ্ঠিত হতো ঘোড় দৌঁড়ের মেলা। ওই মেলায় বড়রিয়া গ্রামের সানু সরদার তার ঘোড়া নিয়ে অংশ নিতেন এবং ছিনিয়ে আনতেন প্রথম পুরস্কার। এক বছর মেলা কমিটি জোরপূর্বক তার ঘোড়াকে পরাজিত করে। প্রতিবাদ করায় তিনি লাঞ্চিত হন। ক্ষোভে-দু:খে তিনি পরের বছর থেকেই নিজ গ্রামে ওই একই দিনে ঘোড় দৌঁড় মেলার আয়োজন করেন। কালক্রমে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই ওই মেলাটি হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ।
অসংখ্য দোকান-পাট আর হাজার রকমের জিনিস-পত্রের বিপুল সমাহারে মেলা থাকে পরিপূর্ণ। লাখ লাখ মানুষের সমাগমে জনসমুদ্রে পরিণত হয় মেলা মাঠ। মাছ-মাংস, মিষ্টি-মিঠাই, খেলনা-প্রসাধনি, ঘর-গৃহস্থালি থেকে শুরু করে মানুষের নিত্য চাহিদার সব কিছুই মেলে এ মেলায়। থাকে বিনোদনের হরেক ব্যবস্থা। মানুষের হাসি-কান্না, শিশু-কিশোরের কলকাকলি, বাঁশি-ঝুনঝুনির শব্দে মেলার বিরাট প্রাঙ্গণ থাকে মুখরিত।

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন



ad03






– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!