মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

ঘোষণা -:
নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালযয়ে আবেদিত। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩, নিউজ৭১অনলাইন সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে মোবাইল ঃ- ০১৭১৪২৭৭৬৮,০১৭১০-৯৫৯৮৯৫ অথবা  [email protected] ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে পারেন

ad 02



সমীক্ষার প্রেক্ষণে কবি দালান জাহান’ র কাব্যগ্রন্থ ‘ ব্লাড ফায়ার ‘

সমীক্ষার প্রেক্ষণে কবি দালান জাহান’ র কাব্যগ্রন্থ ‘ ব্লাড ফায়ার ‘



নিউজ ৭১ অনলাইন :

সমীক্ষার প্রেক্ষণে
কবি দালান জাহান’ র কাব্যগ্রন্থ
‘ ব্লাড ফায়ার ‘

বিগত ঢাকা ২০১৮ বই-মেলায় প্রকাশিত হয়েছে অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থ।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের বেশ কয়টা আমি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছি।সংগৃহিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মাঝে কবি দালান জাহান’ র ‘ ব্লাড ফায়ার কাব্যগ্রন্থটি কেমন যেন দৃষ্টি কেড়েছে প্রথম থেকেই। বইটা মেলা থেকে কিনেই এর ভেতর থেকে ২/৩ টে কবিতা পড়ে নিলাম মিনিট বিশেকের মধ্যে প্রাপ্তিস্থল বলাকা প্রকাশনের স্টলের সামনেই। বেশ একটা আকর্ষণ রয়েছে কবিতাগুলোতে । সম্ভব নয় জেনে ও এক নজরে বইটার ভেতরের নির্যাসে কি আছে জানতে চেষ্টা করলাম। এটাকে দোষ দেয়া যায় না কারণ অনুসন্ধিৎসু মনের ওপর জোর চলে না। তবে
বইটা বেশ টানলো আমাকে। গত কয়েক বৎসর ধরে বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকীতে কবি ‘ দালান জাহান’ র কবিতা পড়ার আমার সুযোগ হয়েছে। ভাবলাম বইটা ভালো করে পড়ে এর ওপর একটা আলোচনা করবো একসময়। কিন্তু সময়ের বহমান গতিধারা আমাকে বিস্মৃতির চাদরে এমনভাবে বারবার মুড়িয়েছে তা একপ্রকার আমাকে ইচ্ছাচ্যুত করেছে, আর আমি ও সময়ের দাবীর কাছে হয়েছি শৃঙ্খলিত।সব বুঝে ও তাই আমি কবি ‘দালান জাহান’র কবিতার মতো নম্র মোমের আভরণে শৈল্পিক দ্রোহী হয়ে উঠতে পারিনি। সে যা হউক আমি ফিরতে পেরেছি উক্ত
কাব্যগ্রন্থ আলোচনায়। আলোচনা শুরুতেই আমি
একবার কবিকে নিয়ে ভাবলাম।কবি নতুন প্রজন্মের কবি। বয়স ও খুব বেশি নয়। কিন্তু বয়সের তুলনায় লেখায় রয়েছে ভারিক্কী চাল, গভীর অনুভব সাঁতরে বেড়ায় ভাবসাগরে। সূক্ষ্ম
চিন্তন উঠে এসেছে একেবারে মাটির গভীরতম
আদি স্তর থেকে যেখানে পীচের পলেস্তরা নয়
মাটির গান তথা লোক গান ও গীতি সোঁদা গন্ধ
ছড়িয়ে যাচ্ছে অনবরত সময়ের পললে। কবির জন্ম তার উত্তরবঙ্গের গীতিকবিতার জনপদ
ময়মনসিংহের ‘ মরি চর চর ‘ গ্রামের সম্ভ্রান্ত সরকার পরিবারে। লেখালেখিতে হাত পাকিয়েছেন একদম অল্প বয়সেই। ছড়া, গান দিয়ে শুরু করলে ও কবিতার জগতে আসতে এবং একটা জায়গা করে নিতে খুব একটা সময় নেননি। এ পর্যন্ত কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে দুটি ১) ঘুমাও কামনার সুখ ও ২) ব্লাড ফায়ার। দুটোই আমার সংগ্রহে থাকলে ও আজ আমি আলোচনা করছি কবি দালান জাহান’ র ‘ ব্লাড ফায়ার ‘ কাব্য গ্রন্থ নিয়ে।

আলোচনার শুরুতে আমরা জেনে নিই কবিতা কি আর কাব্যগ্রন্থই বা কি? খুব সহজভাবে বলা যায় ” যে রচনার শব্দসমূহ পাঠকের কল্পনালোকে
এক চিত্রিত সৌন্দর্যের বিশ্ব উম্মুক্ত করে এবং আনন্দ সঞ্চার করে তাকে কবিতা বলে ধরা নেয়া
যেতে পারে। ” এ প্রসঙ্গে স্যামুয়েল জনসন বলেছেন কবিতা হলো ” Metrical Composition” বা ‘ ছন্দোবদ্ধ রচনা ‘। অন্যদিকে
কাব্যগ্রন্থ হলো ” বিভিন্ন ভাব বৈচিত্রে নির্মিত কবিতার সমন্বয়ে যে গ্রন্থ রচিত হয় সেটাই কাব্যগ্রন্থ। ”

উক্ত বিষয় মাথায় রেখে এটুকু প্রথমেই বলা যায়
কবি দালান জাহান বেশ কিছু হৃদয় আন্দোলিত করা কবিতা নিয়ে কবিতার কুলঙ্গি বা কাব্যগ্রন্থ সাজাতে এতটুকু কার্পণ্য করেন নি। কবি দালান
জাহান মা, মাটির মানুষ। দেশকে ভালোবাসেন
মায়ের মতোন। তাই মাতৃভূমির প্রতি কবির রয়েছে দারুণ প্রেম।গভীর অনুভূতি,অকৃত্রিম
চিন্তনে যে কবিতাগুলো সৃজিত হয়েছে তাতে
মাতৃভূমির প্রতি গভীর প্রেম উৎসারিত হয়েছে।
সত্যি বলতে কি কবি মাতৃভূমির মাঝে যে সৌন্দর্য
তাতে সম্পূর্ণ লীন হতে চেয়েছেন। তাই ছোট ছোট
ক্ষুদ্রাণুক্ষুদ্র অসামঞ্জস্যগুলো ও প্রতিভাত হয়েছে
তার আনুবিক্ষণিক দৃষ্টিতে। এ কারণেই শুরু থেকে শেষতক দেখি কবিতা এবং কাব্যগ্রন্থের দেহসৌষ্ঠব গড়ে উঠেছে তার চারপাশের তথা দেশের সামগ্রিক অসংলগ্ন, উছৃঙ্খল নির্লজ্জ্ব খাণ্ডব চিত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলী নিয়ে।যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অত্যাচার, অনাচার, সামাজিক ও রাষ্ট্রযন্ত্রের অসংঙ্গতির প্রতি শাব্দিক প্রতিবাদের তীব্র কন্ঠস্বর ঝলকে উঠতে
দেখা যায় শৈল্পিক শাব্দিক নিপুণ চারুময়তায়।

২)
এবার দেখা যাক আলোচনায় আনা এই
কাব্যগ্রন্থের ভেতরের কবিতাগুলোর স্বরূপ বা তাদের রূপচিত্র। কবিতাকে যদি তাদের নির্যাস
নিয়ে বিচার করি তাহলে বলতে হয় এ কাব্যগ্রন্থের
সবকটি কবিতাই তন্ময় কবিতা। কবিতার পরতে
পরতে উঠে এসেছে মানবতার প্রতি নীরব অথচ
তীক্ষ্ণ আর্তনাদ যার স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে গেছে আশ্চর্য
দ্রোহের শাব্দিক মোমতরঙ্গে কাব্যিক অঙ্গনে। প্রতিটা কবিতা পড়তে গেলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে কবিতার মূল বার্তা।
কাব্যগ্রন্থ ‘ ব্লাড ফায়ার ‘ এর প্রথম কবিতা হলো
‘অনন্ত ঈশ্বরের কবিতা ‘ এর শেষার্ধে তিনি
লিখলেন ;

” প্রেমের আরেক নাম জীবন,/ অনন্ত ঈশ্বরের কবিতা,/দ্বিতীয়বার বের হলো /তোমার হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে,/ তারপর থেকেই কবিতা হলো জীবন্ত। ”

অসাধারণ এক জিজ্ঞাসা ভাব আর অনুভূতির
চাতালে মাথা ঠুকে ঠুকে অনাদিকাল থেকে ঈশ্বরের খোঁজে ব্যাপৃত হওয়ার কথাই যেনো
ধ্বনিত হলো। এরকম একটা অতৃপ্ততার সুর
খুঁজে পাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তোমার
সৃষ্টির পথ ‘ কবিতায় ;

” তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে
হে ছলনাময়ী! ”

এরপর একেএকে যোজিত করলেন যাবতীয় কবিতা। অনেক কবিতাই দ্রোহের ফুলকি তুলেছে
ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে, ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে। স্বল্প পরিসরে এই কাব্যগ্রন্থের সব কবিতা আলোচনা
করা সম্ভব নয় জেনেই কিছু কিছু কবিতাকে
ব্যবচ্ছেদ করতে সচেস্ট হলাম।
‘কবিতা চায় সবুজ মানুষের মুখ ‘ কবিতায় কবি উম্মোচিত করলেন কবি ও কবিতার প্রত্যাশা, যুগের কবিতা সময়পযোগী চাহিদার মোড়কে আবৃত প্রগাঢ় তৃষ্ণা, তাও দ্রোহ প্রকাশিত হলো নিপুণ শব্দযোজনার শৈল্পিক কারিগরীতে ;

‘ কবিতা চায় প্রেম,/ জলের অক্ষরে লেখা অমিয় নাম,/ বেদনাদীর্ণ কান্নার পাহাড় / শব্দের যন্ত্রণার কারারুদ্ধ কন্ঠে / উঠে আসা হতশার রক্ত- কাশি’।

কবির দৃষ্টিতে আজ কবিতার উর্বর ক্ষেতে এখন
দারুণ খরা, ভবিষ্যৎ যেন তিরোহিত আর এতে
কবি শঙ্কিত। তাই এই আর্তচিৎকার। এছাড়া ও
‘ ব্লাড ফায়ার ‘কবিতায় শেষ স্তবকে কবিকে বলতে দেখি ;

‘পকেটের হাসি খুলে বুকে নিলো কবি,/নৈঃশব্দের কুমকুম গন্ধ,/আগুনের ভস্ম গৃহ/বড্ড মলিন আর দুর্গন্ধময়,/নদীগুলো দৌড়ে এলো চকচকে রাস্তায়,/ক্ষুধার তাড়নায় ছুটে চললো/দুর্ভিক্ষের ট্রাকগুলো।’

অসাধারণ এক ভাবের ব্যাপ্তি কবিতায়। এখানে ও দ্রোহের ফুলকি উঠেছে ক্ষুধার বাস্তব রূপের
সজীব চিত্র নিয়ে। এর মাঝে মেকি সুখ চিন্তনের অনুভব কবিতাকে দিয়েছে অন্যমাত্রা। ‘একটি
রাজকীয় কবিতা ‘ এ বার্তাকে আরো স্পষ্ট করে
দিলো ;
“তোমরা দূরে থেকো,/দুর্ভীক্ষের ঊষরপ্রান্ত থেকে,
প্রকাণ্ড ক্ষুধা জ্বালাময় উদর-/দুর্দশার চিত্রে আঁকা সাধারণ/অতি সাধারণের নির্লজ্জ -নির্মম ইতিহাস থেকে। ”

এর মাঝে ও কবি দারুণ আত্মপ্রত্যয়ী। আশা আর প্রত্যাশার বাতিঘর খুঁজে বেড়ান মানুষের
সহজাত বিপ্লবী চোখে। তাই তিনি অনুপ কাব্যিকতায় বললেন ;

” তুমি বলেছিলে/ প্রতিটি চোখেই ডজন- ডজন সূর্য থাকে/ প্রতিটি মাথায় থাকে গিরি- শৃঙ্গ,/
প্রতিটি দেহেই নদী থাকে তরঙ্গ থাকে,/ প্রতিটি মানুষের কাছেই থাকে ঈশ্বর। ”

কবি দালান জাহান মাটির খুব গভীরে যেতে
পেরেছেন, মাটির হৃদয় নিংড়ানো বিদীর্ণ আর্তনাদ, ক্ষুধার করাল ছায়ায় আবিস্ট বিশাল
আকারের জনজীবনের উপর যে ছায়া আপতিত
হয়েছে যুগের পর যুগ, কালের পর কাল, শীর্ণ কঙ্কাল উর্ধ্বমুখি অগুনতি যুগল হাতের আর্তচিৎকার তিনি শুনতে পেয়েছেন। এতে তিনি
হয়েছেন আন্দোলিত। বিদ্রোহের ঝাঁঝাঁলো গন্ধে
হয়েছেন মাতোয়ারা, দ্রোহী হয়েছে শৃঙ্খলিত মন ও মনন।তেতে উঠলেন ভেতরে ভেতরে, দ্রোহ ধ্বনিত হলো নম্র শিল্পিত কৌশলে। বাংলার কবিদের মাঝে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে যে কয়জন
কবি দ্রোহের কবিতা লিখেছেন তাদের মধ্যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও পরবর্তি পর্যায়ে একই শতকের কবি সুকান্ত ভট্টচার্য অন্যতম। উভয় শতকে অনেক কবিকেই দ্রোহের কবিতা লিখতে দেখা যায়। আমার আলোচনায় এ দু’জন কবিকে টেনে আনার কারণ হলো দুই প্রান্তের দুই কবি কিভাবে দ্রোহের কবিতা লিখে বাংলা কাব্যাঙ্গণে সর্বোপরি বাংলা সাহিত্যকে উর্বর করে গেছে আপন স্বকীয়তায় ও স্বাতন্ত্র্যবোধে তার একটা রেশ টেনে নিতে। দু’জনেই ভিন্ন চিন্তা চেতনা মননে যে ছায়াপথ রেখে গেছেন তার বিকীর্ণ আলোকপ্রভায় আজকের আমরা আজ ও আলোকিত হচ্ছি তার একটা ধারনা না দিলে আলোচনাটা দিক খুঁজে পাবে না। তাই বলতে হয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশ উপনিবেশিকতাবাদ আর সাম্রাজ্যবাদের নির্মম অত্যাচার, শাসন -শোষন, নিপীড়ন, পরাধীনতার গ্লানিতে আকন্ঠ ডুবে থাকা সমাজ জীবনের প্রতি দৃকপাত করেই ফুঁসে উঠেছেন কলম ঝংকৃত হয়েছিলো দ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গে। এদিক দিয়ে বলতে গেলে বিদ্রোহী কবি একেবারে যেমন স্বতন্ত্র তেমনি প্রত্যক্ষ কলম ছিলো শাণিত তরবারী । শব্দের বাণ সরাসরি আঘাত করেছে শাসক গোষ্ঠীর বেদীমূলে, তিনি লিখেছেন তৎকালীন রাজনীতি, সমাজনীতি, দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধাপীড়িত তাবৎ মানুষের কথা, মানবতার কথা উচ্চারিত হয়েছে শব্দে, শব্দে, শব্দের ফুলঝুরীতে আর এতে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে শাসকগোষ্ঠির অহংকার ও দর্প। তাঁর কণ্ঠে নিঃসৃত হয়েছে স্বরচিত জাগরণের গান অন্যদিকে আরেকজন আধুনিক গতিধারায় সম্পূর্ণ স্বাতন্ত্র্যিকভাবে দ্রোহের কবিতা লিখেছেন তবে তাঁর অল্প সময়ের সমস্ত লিখা আগ্রাসী ক্ষুধাকে আবর্তন করে,মানবতাকে ঘিরে।
একজন সরাসরি বা প্রত্যক্ষ অন্যজন কোমল, নম্র বা অপ্রত্যক্ষ। এতোকথা বলার কারণ
একটাই আজ আমরা দ্রোহের কবিতা লিখি
একুশ শতকে এসে আমাদের বলার এবং লিখার
ধরণ পাল্টিয়েছে, পাল্টিয়েছে রাস্ট্রব্যবস্থা সমাজ
ব্যবস্থার সাথে সাথে। বিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত কবিরা লড়েছেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার জন্য, ক্ষুধার বিরুদ্ধে,দারিদ্র্যতার বিরুদ্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রের শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে। বিশ শতকের পরবর্তী পর্যায়গুলোতে অর্থাৎ একুশ শতকের গোড়াতে স্বাধীনতার জন্য লড়তে না হলে ও স্বাধীনতার খোলসে স্বেচ্ছাচারিতা, শাসন -শোষন, বঞ্চনা, ক্ষুধার বিরুদ্ধে ঠিকই লড়তে হয়েছে। এতে বারংবার ঘষা মাজা ও আধুনিকত্বের সজ্জায় বলা ও লিখায় এসেছে বেশ পরিবর্তন। তবু বলবো উপরোক্ত দু’জন কবিকেই অনুসরণ করেছে কম বেশি সবাই।
কবি দালান জাহান ও এর ব্যতিক্রম নয়, তবু বলতে হয় তার বলার ও লিখার ধরনে কিছুটা
ব্যতিক্রমতা পরিলক্ষিত হয় বৈ কি। কবি স্বাধীনতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ” স্বাধীনতার স্বাধীনতা “কবিতায় লিখেছেন যেখানে ও রয়েছে দ্রোহ ;

” স্বাধীনতা বলতে এখনও/স্বাধীন শব্দটা কুড়ানো কিছু ব্যথা/স্বাধীনতা বলতে এখনও/স্বাধীনতার স্বাধীন হওয়ার কথা। ”

কবি দালান জাহান’ র কাব্যে প্রেম ও রয়েছে। দ্রোহের মাঝে ও তিনি ভালোবাসার নির্যাস খুঁজে
ফিরেছেন। তার ‘ ব্লাড ফায়ার ‘ কাব্যগ্রন্থের
শেষ কবিতা ‘ আমি বিপ্লব বুঝিনা ‘। এতে তিনি
বললেন ;

” আমি সংগ্রাম বুঝি না,যুদ্ধ বুঝি না/তোমার হৃদয়ের তুফান বুঝি/আমি আশা বুঝি না,ভাষা বুঝি না/ভালোবাসা বুঝি শুধু ভালোবাসা বুঝি। ”

কবি আসলে পাথরে প্রাণ আর আগুনে করেছেন জলের সন্ধান। অপূর্ব ভাব আর চিন্তনের মিশেল এক কবিতা।

৩)
কবি দালান জাহান’ র কাব্যগ্রন্থ ‘ ব্লাড ফায়ার ‘
বস্তুতপক্ষে একটা দ্রোহের কাব্যগ্রন্থ। প্রতিটা
কবিতাই দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে কোন না
কোনভাবে। আধুনিক ছন্দে লিখিত প্রতিটা
কবিতা ডানা মেলেছে কাব্যগ্রন্থে আপন স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তায়। চমকপ্রদ শব্দের ঝংকার ও শব্দসজ্জায় কাব্যগ্রন্থ সেজেছে ব্যতিক্রমী চিন্তা চেতনা মননে। সমাজ চিত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং এর অস্বাভাবিক চলন, জনমনে অনৈতিক,বিকৃত চিন্তার প্রভাব,ক্ষুধার করাল চিত্র, দারিদ্র্যের নির্মম পরিহাসের প্রতি কবি তুলেছেন সম্পূর্ণ শৈল্পিক নম্রতায় দ্রোহের শব্দঙ্গুলি, এর মাঝে ধ্বনিত হয়েছে দেশপ্রেম,রাষ্ট্রভাষা তথা বাংলা ভাষার প্রতি গভীর টান এবং তার সুদীর্ঘ ইতিহাস স্মরণ ও প্রেম সবই রয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে। কাব্যগ্রন্থ ‘ ব্লাড ফায়ার ‘ র দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ করেছেন ‘ মোস্তাফিজ কারিগর ‘ এবং বইটা প্রকাশিত হয়েছে ‘ বলাকা প্রকাশন ‘ থেকে। বইয়ের মূল্য ও রাখা হয়েছে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। যে কেউ বইটা সংগ্রহে রাখতে পারেন। আমি কবি ‘দালান জাহান’ এর ‘ ব্লাড ফায়ার ‘ কাব্যগ্রন্থের বহুল প্রচার কামনা করি।

রূপক বরন বড়ুয়া
লেখক, কবি ও গবেষক

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন



ad03






– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!