মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

ঘোষণা -:
নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালযয়ে আবেদিত। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩, নিউজ৭১অনলাইন সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে মোবাইল ঃ- ০১৭১৪২৭৭৬৮,০১৭১০-৯৫৯৮৯৫ অথবা  [email protected] ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে পারেন

ad 02



ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম!

ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম!



আজহার মাহমুদ::

ভাবছেন একজন মুসলমান কিভাবে এমন কথা বলতে পারে। হুম, কথাটি আমি না বললেও যারা এই কথাটি বলেছে তাদের জবাব দিতে না পেরে আমিও তাদের কথাটি বলতে বাধ্য হচ্ছি। নিকট অতীতে ঘটে যাওয়া তাবলীগ জামাতের সংঘাত-সংঘর্ষ নিয়েই এ কথা। এরা ইসলামের বাইরে কেউ নয়। তাদের মত একটি দ্বীনি সংগঠনে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সেই বিরোধের জেরে এমন ঘটনা খুবই দু:খজনক। বছরখানিক আগে সংগঠনটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। একপশে আছে দিল্লীর নিজামউদ্দীন মারকাজের মওলানা সাদের অনুসারীরা। অন্যপশে আছে ঢাকার কাকরাইল মারকাজের মওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। সাদ অনুসারী ও জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে টঙ্গীতে ব্যাপক সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের অজানা নয়। এটা ভিডিও আকারে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশ্বে। এতে একজন নিহত ও উভয়পাশে তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে মিডিয়া থেকে জানতে পারলাম। কিন্তু ব্যক্তিগত সূত্রে জানতে পারলাম ১ জন নয় বরং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ৪/৫ জন এর অধিক হবে। যাইহোক এটা আমাদেরই লজ্জা। কারণ আমার ধর্মের মানুষকে আমিই মারছি। এর চাইতে বড় লজ্জা আর কি আছে তা আমার জানা নেই। বিশ্বব্যাপী দ্বীন প্রচারে তাবলীগ জামাতের ভূমিকা ও অবদান অনস্বীকার্য। এই সংগঠনের অনুসারীরা শান্তি, শৃংখলা নির্বিরোধ সহাবস্থান ও অহিংসার বাণী প্রচার করে থাকে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিষয় প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে। অথচ তারাই ওইদিন লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। রক্তে রঞ্জিত করেছে ইজতেমা ময়দানসহ টঙ্গীর রাস্তাঘাট।
এখন আসি মূলকথায়। যখন এই সংবাদ এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে তখন এর মন্তব্যও এসেছে প্রচুর। এর মধ্যে কিছু মন্তব্য আমার উপরের শিরোনাম। তাদের মন্তব্য “ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম”। তখন তাদের রিপ্লাই দেওয়ার মতো কেউ নাই। কারণ তাদের কথায় ভুল নেই। আজ যদি আমার ধর্ম শান্তির ধর্ম হতো তাহলে এভাবে অশান্তি তৈরী করছি কেনো? তাহলে কি আমার ধর্ম শান্তির না? আমি মনে করি, অবশ্যই শান্তির। কিন্তু আমরাই এটাকে অশান্ত আর নোংরা বানিয়ে ফেলছি। আমরা ধর্ম দিয়ে আজ ব্যবসা শুরু করছি। আমরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ক্ষমতা আর নেতা হতে চাই বলেই আজ ধর্মের এমন অবস্থা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, কেয়ামতের আগে ইসলাম ৭৩ ভাগে বিভক্ত হবে। যার মধ্যে একটি ভাগ ঠিক বাকি ৭২ ভাগ বেঠিক। যার আলামত আমরা এখন দেখতে শুরু করেছি। বর্তমানে ইসলামের দলের অভাব নাই। সবাই ইসলাম নামটি ব্যবহার করে যার যার মতো নিয়ম তৈরী করে এক একটা দল করেেছ। আহলে হাদিস, ওহাবী, তাবলীগ, জামায়েত, সুন্নি, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়েতসহ বিভিন্ন দল রয়েছে ইসলামে। এদের ভেতরও আবার আর কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমনটা তাবলীগে আমরা দেখেছি। এখন আপনি কোনটাতে যাবেন? কিংবা আপনার কাছে কোনটা ঠিক? জানি প্রশ্নগুলোর জবাব কখনো এক হবে না। এখন বাংলাদেশে পীর, ওলী, বাবা, দরবেশের অভাব নেই। দেওয়ানবাগী থেকে শুরু করে বিড়ি বাবা, রাজার বাগ, শিকল বাবা, তালা বাবা, কুতুববাগ আটরশি, চরমোনাইসহ নানান নামের নানান বাবা, পীর, আউলিয়া, দরবেশ এখন আমাদের দেশে তৈরী হচ্ছে। প্রত্যেকের নিয়ম আলাদা। এর মধ্যে অনেকেই আছে যারা ইসলামকে নষ্ট করে দিচ্ছে। ধর্মকে ব্যবহার করে যার যার মতো ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে সবাই। আর এসব ব্যবসার মধ্যে ব্যবহার করছে বর্তমান তরুণ সমাজকে। পক্ষান্তরে দেখাযায় তরুণ প্রজন্ম ভুল পথেই চলে যায়। আর এভাবে ভুল পথেই যেতে থাকবে সকলে। কারণ সঠিক পথ কেউ দেখাবে না। এতে করে যে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। যারা বিভিন্ন দলের বড় বড় আলেম রয়েছেন সকলেই কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে কম বেশী জানেন এবং বুঝেন। কিন্তু কেউ কারো সাথে আলাপ আলোচনা করে সঠিকভাবে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এতে করে সৃষ্টি হচ্ছে ভন্ডদের দল। তাই এদের র্নিমূল করা যায় না। কিন্তু এটা কখনো আল্লাহ মেনে নিবে না। আপনি সঠিক পথে আছেন সেটা যিনি ভুল পথে আছেন তাকে জানানো আপনার দায়িত্ব। আপনি সেটা না জানিয়ে আপনার মতো চলছেন এটাতো ইসলাম বলে নাই। যার কাছে যেখানে ভুল মনে হয় সেটা নিয়ে বসে আলোচনা করে ঠিক করা কি যায় না? যদি ব্যবসায়িক মানসিকতা থাকে তাহলে যায় না। কারণ আমার দলে তো আমি নেতা আমি পীর। সঠিকটা জেনে গেলে যদি আমাকে পীর না মানে! এমন সমস্যার কারণে কখনো এক হওয়া সম্ভব না। বলতে গেলে ইসলাম এখন টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছে। কারো কাছেই সম্পূর্ণ ইসলাম নেই। সকলেই ইসলামের টুকরো নিয়ে সমাজে অবস্থান করছি। সম্পূর্ণ ইসলামিক চালচলন আমরা হারিয়ে ফেলেছি। সুতারাং আমাদের ভুল আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে। আজ আমাদের ধর্মের কারণে অন্যধর্মের মানুষজন ভয়ে রয়েছে। কখন কোথায় হামলা, মারামারি হবে সে আতংকে। তাহলে ইসলামকে শান্তির ধর্ম কিভাবে বলবেন? তাই আগে শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করুন। তারপর বলবে শান্তির ধর্ম। আর আগে আমরা ঠিক হই তারপর অন্যধর্মের ভুল ধরবো। আর যাইহোক অন্য ধর্মের মানুষরা এরকম মারামারি করে না নিজেদের সাথে। আর আমরাতো মারামারি নয়, হত্যা করে ফেলেছি। জানিনা এ সমস্যার সমাধান কি হবে। তবে যাইহোক অন্তত শান্তি যেনো পাই সেটাই কাম্য।

লেখক : আজহার মাহমুদ
প্রাবন্ধিক, কলামিষ্ট ও ছড়াকার

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন



ad03






– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!