মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সেনবাগে অান্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত নরসিংদীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত চা শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নে আট দফা সুপারিশ টিআইবি’র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নতরী-৭১ এর ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা সম্পন্ন নওগাঁ মুক্ত দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও শহীদদের প্রতি পুস্প নিবেদন মীরসরাইয়ে রায়পুরে জাগো অপরাজিত মৈত্রী সংঘের বিজয় মঞ্চে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাণীনগরে কক্টেল বিষ্ফোরন মামলায় ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার-৫ নওগাঁ-৬ আসনে ছাত্রলীগের সমণ্বয়ক আসাদুজ্জামান আসাদ ছেলেকে জয়ী করতে নির্বাচনের মাঠে মাশরাফির বাবা ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

ad 02

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিপদমুক্ত থাকুক

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিপদমুক্ত থাকুক

  হারুন হাবীব:ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিনে প্রকাশের জন্য আমার কাছে একটি লেখা দেয়ার অনুরোধ যখন আসে, তখন কী লেখা যায় তা নিয়ে ভাবার চেষ্টা করেছি। কী লেখা উচিত, ভেবেছি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসটি যখন আবার গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের মাস।

বলাই বাহুল্য, আমরা যারা জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন পর্যায়ের মানুষ, অনেক যুগ পেরিয়ে যারা ২০১৮ সালের শেষপ্রান্তে আসার সৌভাগ্য অর্জন করেছি, তাদের কাছে আজকের সময়টি বড় বেশি আবেগের।

এ আবেগ একাত্তরের ঐতিহাসিক রণাঙ্গনের সৈনিক হওয়ার জন্যই কেবল নয়, সেদিনকার পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জনের সৌভাগ্য দেখার কারণেই নয়, একইসঙ্গে এ আবেগ পঁচাত্তরের রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তীকালের ভয়ংকর সব ঘটনাপ্রবাহের কারণেও।

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আজকের ও আগামীকালের মূল চালিকাশক্তি যে নতুন মানুষ, যে যুব-তারুণ্য, তাদের উদ্দেশে ইত্যাকার কারণেই আনন্দ-বেদনার কিছু উপলব্ধি তুলে ধরা সঙ্গত মনে করছি আজ।

কেউ কেউ মনে করেন, বলেনও যে, আটচল্লিশ বছর বয়সী বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ আজ আর প্রাসঙ্গিক নয়। এ বাস্তবতা বা আবেগ কেবল তাদেরই যারা পুরনো জেনারেশনের মানুষ। এ শ্রেণীর মানুষ আরও বলে থাকেন- মুক্তিযুদ্ধ আজ কেবলই ইতিহাস, যে ইতিহাস নিছকই পাঠ্যসূচির উপাত্ত, সমকালীন জীবনে এর ব্যবহারের আর সুযোগ নেই।

যারা এমনতর যুক্তি উপস্থাপন করেন তাদের সঙ্গে, বলাই বাহুল্য, আমি শক্ত দ্বিমত পোষণ করি। একইসঙ্গে আমি মনে করি, এ ধরনের উপলব্ধি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আমার আরও বিশ্বাস, কেবল আজ নয়, আরও বহুকাল বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক থাকবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, আমরা কেউ তা চাই বা না চাই। এ প্রাসঙ্গিকতা, হয়তো অনেকেই বলবেন, পুরনো থেকে বেরিয়ে না আসা, কিংবা সমকালীনতাকে অস্বীকার করা। কিন্তু আমি তা মনে করতে পারি না।

পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরের ইতিহাস যারা অবগত তারা সবাই জানেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন পূরণের জনযুদ্ধ; যার রূপকার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি সেই স্বপ্নকে সার্থকভাবে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন স্বাধীনতাকামী গণমানুষের মধ্যে।

জাতির সৌভাগ্য যে, সেই স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছিল, লাখো দেশপ্রেমিকের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আরও উল্লেখ করার বিষয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র মাত্র দশ মাসের মাথায় এমন একটি রাষ্ট্রীয় সংবিধান প্রণয়নে সক্ষম হয়েছিল, যা তাকে বিশ্ব আঙিনায় আধুনিক জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মর্যাদায় দাঁড় করিয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, নতুন রাষ্ট্রের বিরোধীরা বসে থাকেনি। তারা পাল্টা আঘাত হেনেছিল ১৯৭৫ সালে। রাষ্ট্রের জনককে প্রায় সপরিবারে হত্যা করে তারা মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের শোধ নিয়েছিল। একইসঙ্গে তারা ফিরিয়ে এনেছিল সাম্প্রদায়িক জাতিসত্তার পুরনো সেই তত্ত্ব, যা ছিল কেবলই পাকিস্তান রাষ্ট্রের, যার বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঙালি জাতি একাত্তরের অসামান্য বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।

মোটকথা, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র নতুন করে আবারও ‘পূর্ব পাকিস্তানে’ পরিণত হয়েছিল; একাত্তরের স্বপ্নেরা বিতাড়িত হয়েছিল, বিতাড়িত হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ এবং লাখো মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ।

পঁচাত্তরের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কুশীলব এবং তাদের পুরনো ও নব্য সমর্থকরা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করেছে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে। এ সময় তারা পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, এমনকি একাত্তরের ঘাতক, ধর্ষক ও লুণ্ঠনকারীদের পুনর্বাসন করেছে; নতুন প্রজন্মকে জাতীয় স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চেয়েছে; বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাভাবিক যাত্রাপথ রুদ্ধ করেছে। এ বেদনাদায়ক ইতিহাসের নিরপেক্ষ যে কোনো পর্যালোচকই এ নির্মম সত্যের সাক্ষ্য দেবেন, সাক্ষ্য দেবে ঘটনাপ্রবাহ।

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির ওপর ভর করে প্রথম সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও দর্শন বলতে যা বোঝায়, তার প্রায় সবকিছু সামরিক ফরমান বলে পবিত্র রাষ্ট্রীয় সংবিধান থেকে বাতিল করে দেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া একজনের হাতে সংগঠিত এ কাজ, বিস্মিত হওয়ার মতো হলেও সত্যি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী মৌলিক ক্ষতির স্বাক্ষর বহন করে, যে ক্ষতির পূরণ আজও সম্ভব হয়নি।

অর্থাৎ ১৯৭৮ সালের পর আমরা যে রাষ্ট্র পাই সেটি ছিল বাংলাদেশ নামের খোলসে আরেকটি পাকিস্তানি মানসতন্ত্রের নতুন রাষ্ট্র, যার উদ্যোক্তা জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং যা মুক্তিযুদ্ধের সর্বতো বিরোধী। এরই পরিণতিতে আমরা দেখি- রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যাকারী, ধর্ষক এবং মুক্তিযুদ্ধের লুণ্ঠনকারী তস্করেরা দলে দলে মন্ত্রী, এমপি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়!

ক্রমান্বয়ে তারা বিশাল ধন-সম্পদের মালিক হয়, এমনকি অনেকাংশে সমাজ নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী অপশক্তির এ পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ফলে তারা শক্তি সঞ্চয় করে এবং এক সময় বলতে শুরু করে, এ দেশে কোনোদিন কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, হয়েছে একটি গৃহযুদ্ধ মাত্র!

বলাই বাহুল্য, এ ধৃষ্টতার মাধ্যমে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তার বাঁকেবাঁকে তৈরি অফুরন্ত চেতনার উৎস, অনুপ্রেরণার ঝরনাধারাকে কেবল অস্বীকার নয়, জাতির সব গৌরব ও অহংকারকে অন্ধকার গুহায় নিমজ্জিত করে। জাতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে।

বলাবাহুল্য, সেটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক গাঢ় অন্ধকার কাল। জাতির সৌভাগ্য যে, ঠিক সে সময়েই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শধারী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো পুনর্জাগরিত হয় এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই প্রতিরোধ সংগ্রাম মোটেও সহজ ছিল না।

জাতির আরও সৌভাগ্য যে, সেই ভয়ংকর পথপরিক্রমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধকে পুনরুদ্ধার করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এসেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। ইতিহাসের সেই বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার ভূমিকা সে কারণেই আরেক ইতিহাস হয়ে থাকবে।

আমরা দেখেছি, বিগত বছরগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের নতুন যুদ্ধে বাংলাদেশ রাষ্ট্র বেশকিছু সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে। এ পদক্ষেপে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে; কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে; সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রায় সবই ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যদিও আজও তা পরিপূর্ণ হয়নি।

মোটকথা, পঁচাত্তরের পর যেসব অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের ওপর কালিমা লেপন করেছে, বাংলাদেশকে নতুন করে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন ও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সচেতন হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক শক্তির সাহসী অবস্থানে আদি বাংলাদেশ জেগে উঠেছে তার স্বমহিমায়।

কিন্তু বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তির তৎপরতা কি শেষ হয়েছে? আমাদের প্রিয় স্বাদেশভূমি কি নিরাপদ? আমি তা মনে করতে পারি না। ২০১৮ সালের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা যদি জাতীয় সংকটের স্বরূপ অন্বেষণ করি, ভয়ংকর সব পুরনো দৃশ্য মনে করার চেষ্টা করি, যার মঞ্চায়ন ঘটেছিল রাষ্ট্রের ইতিহাস ও আদর্শবিরোধী প্রবল সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে, আমরা দেখতে পাব, সেসব অপশক্তির অনুসারীরা আজও অবিশ্বাস্যভাবে তৎপর!

আজও তারা একাত্তরের রণাঙ্গনের পরাজয় ভোলেনি, আজও তারা রমনা রেসকোর্সে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ ভোলেনি। বরং নতুন উদ্যমে, নতুন অনুসারীর সম্মিলন ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত শক্তিকে প্রতিরোধ করার অন্বেষায় তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এ যেন আরেক যুদ্ধ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। অর্থাৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দখল, রাজনীতি বা সমাজনীতি নিয়ে যে লড়াই- তার শেষ হয়নি আজও। বরং বাস্তবতার নিরিখেই বলতে হবে, বাংলাদেশ আজও দুই সুস্পষ্ট শিবিরে বিভক্ত। একটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শধারী অসাম্প্রদায়িক শক্তি, অন্যটি তার সম্মিলিত প্রতিপক্ষ, যে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ নামের খোলসে আরেকটি পাকিস্তান চায়।

অতএব বিগত আটচল্লিশ বছরেও মুক্তিযুদ্ধ বিন্দুমাত্র তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি, বরং নতুন আঙ্গিকে, নতুন স্বরূপে জাতির সামনে তা উপস্থিত হয়েছে।

আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ বা সংস্কৃতিচর্চা- সবই, এ আজকের দিনেও, অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে, জাতীয় জনযুদ্ধের পূর্বাপর ইতিহাস ও আদর্শের সঙ্গে এবং যতদিন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আত্মসমর্পণ না করে, যতদিন তারা তৎপরতা অব্যাহত রাখে, ততদিনই প্রাসঙ্গিক থাকবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ; এ সত্যের কোনোই ব্যত্যয় ঘটার নয়।

এটিই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূঢ় বাস্তবতা। এ এমন দুর্ভাগ্যজনক এক বাস্তবতা যাকে স্বীকার না করে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বড় দর্শন হচ্ছে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্তা ও শোষণমুক্ত সমাজের লালন ও বিকাশ। এসবের ওপর ভর করেই সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের গণমানুষ সেনা ও ধর্মশাসিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল।

সহনশীল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ বাংলাদেশ সমাজের বড় শর্ত। কিন্তু এ বাংলাদেশের কোনো অর্জনই সত্যিকার অর্জন হতে পারে না, যদি তা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাদ দিয়ে ঘটে।

ইত্যাকার কারণেই রাজনীতিসহ জাতীয় জীবনের সব অঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। আমরা চাই বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। কেউ থাকবে সরকারে, কেউ বিরোধী দলে।

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সম্পূূর্ণভাবে পরাজিত করার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই এবং বিকল্প নেই মুক্তিযুদ্ধপন্থী রাজনৈতিক শক্তির পুনঃঅধিষ্ঠানের পর থেকে প্রগতি ও উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে- তাকে অব্যাহত রাখার।

আমরা জানি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কে। যে নামে, যে রূপেই তারা আবির্ভূত হোক না কেন, তাদের স্বরূপ ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। তারাই সেই অপশক্তি যারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং জাতির পিতাকে অবমূল্যায়ন করে; যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্মারক ও বৈশিষ্ট্যগুলো অমান্য ও অস্বীকার করে; যারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের বাঁকেবাঁকে সুস্পষ্ট গৌরবোজ্জ্বল ঘটনাবলির ইতিহাসকে অস্বীকার বা আড়াল করে; যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্মাশ্রয়ী এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী রাজনীতিকে সহায়তা করে; প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে এবং মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অশ্রদ্ধা ও অস্বীকার করে।

আমাদের পরের প্রজন্মের মানুষের কাছে এ উপলব্ধিগুলোর সমর্থন আছে জানি। তবু সতর্ক করার দায়িত্ব বোধ করি।

হারুন হাবীব : মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক # যুগান্তর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!