বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:১২ অপরাহ্ন

ad 02

মাদক সন্ত্রাসী শাওনের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম এলাকাবাসীর

মাদক সন্ত্রাসী শাওনের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম এলাকাবাসীর

সোমবার রাতে মহানগরের চরপাড়া এলাকায় অস্ত্রবাজী ও গুলির ঘটনায় আতংকাবস্থার সৃষ্টি হয়। চরপাড়ায় সিএনজি ষ্ট্যান্ডে চাঁদাবাজীকে কেন্দ্র করে এঘটনায় সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগ নেতা উজ্জ্বলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। সূত্রমতে,এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে ৮/১০ রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে। ভাংচুর চালানো হয় বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে। অভিযোগ যুবলীগ মহানগর নেতা ইয়াসিন আরাফাত শাওনের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী ফুসে উঠেছে।

 

এলাকাবাসী ,চরপাড়া ক্লিনিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। হাজার হাজার জনতা মমেক হাসপাতালের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চরপাড়া সড়ক প্রদক্ষিন করে। এর পর টাইমস স্কয়ারে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শাওনের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শহরে ফের সন্ত্রাসীরা চরপাড়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। চরপাড়া এলাকায় চলছে অবাধ ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সিএনজি ষ্ট্যান্ড, ক্লিনিকপাড়ায় স্থানীয় সন্ত্রাসী মাদক গডফাদার শাওনের চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য চলছে। সম্প্রতি চাঁদাবাজরা একাধিক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে মারধর করে চাঁদা আদায় করে বলে বক্তব্যে বলা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সোমবার চাঁদাবাজ শাওনের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক উজ্জ্বলের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও গুলি চালায়। এতে গোটা এলাকায় আতংকাবস্থা ছড়িয়ে পড়ে।

 

মানববন্ধন ও সমাবেশে ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল উদ্দিন দুলাল বলেন, প্রশাসনের মাদক বিরোধী সাড়াশী অভিযানে গা ডাকা দেয়া মাদক গডফাদার শাওন আবার প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী ও মাদক বানিজ্য চালাচ্ছে। এটি উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, চরপাড়া এলাকা বানিজ্যিক এলাকা। এখানে প্রতিনিয়ত এ সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে আমরা ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়েছি। প্রশাসন এখানে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এটি সাধারণ মানুষের কাছে বিস্ময় ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, চরপাড়া মোড়ে আর কোন সিএনজি, মাহেন্দ্র, টেম্পু ষ্ট্যান্ড আমরা চাই না। তিনি অচিরেই এই সিএনজি ষ্ট্যান্ড এখান থেকে উচ্ছেদ এর দাবি জানান। অন্যথায় জনগণ এটি তুলে দিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারন করেন।

সমাবেশে ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মাসুম এর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহজালাল হৃদয়, জেলা যুবলীগ সদস্য আসাদুজ্জামান রুমেল, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বায়োজিদ,ময়মনসিংহ ক্লিনিক মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম চন্দন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ভিপি শান্ত, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাগর চৌধুরী প্রমুখ।

 

জেলা যুবলীগ সদস্য আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, গতকাল আমার চাচা আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক উজ্জ্বলের উপর সন্ত্রাসীরা যেভাবে গুলি বর্ষণ করেছে যদি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট না হতো, তাহলে আজ আমাদের তার জানাজা পড়তে হতো। শুধু আমার চাচা নয়, চরপাড়া এলাকায় এই শাওনের সন্ত্রাসী বাহিনী সকল ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগনের উপর ত্রাসের রাজত্য কায়েম করে রেখেছে। তিনি দ্রুত শাওনসহ তার সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
হামলার শিকার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক উজ্জ্বল তার উপর হামলার প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশে প্রতিবাদী জনতার প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমার উপর এ বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে হামলাকারীরা যদি মনে করেন আমি অন্যায়, মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছেড়ে দিবো, তাহলে তারা ভুল করবেন।

তিনি বলেন,আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত বিন্দু থাকতে আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা থেকে পিছপা হবো না। তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্বেও সন্ত্রাসীরা কিভাবে আমার উপর গুলি বর্ষণ করলো । এটি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাই তদন্ত করবেন।

তিনি বলেন, কোতেয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেয়া ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের প্রতিশ্রুতির কোন সুসংবাদ এখনও আমরা পাইনি। প্রশাসন যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপারগ হন তবে নি:সংকোচে আমাদের বলতে পারেন বলে তিনি বলেন, সাধারণ জনগনই ওই পেটুয়া বাহিনী, মাদক সিন্ডিকেট, সন্ত্রাসী বাহিনীর অস্তিত্ব ময়মনসিংহ থেকে বিলিন করে দিবে। সেক্ষেত্রে দায়দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।

 

উল্লেখ্য, মাদক অস্ত্র সন্ত্রাসের গডফাদার ইয়াসিন আরাফাত শাওন ওরফে শাওন পারভেজ এর বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাসী, মারামারি, হত্যাসহ একাধিক মামলা থাকলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যখন সারা দেশে মাদক বিরোধী যুদ্ধ ঘোষনা করে সরকার, যখন ময়মনসিংহে মাদক বিরোধী সাড়াশী অভিযানে নাকাল মাদক সিন্ডিকেট। তখন কৌশলে গা ডাকা দেয় লিস্টেট মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাত শাওন। সম্প্রতি সে আবার নিজের সন্ত্রাসী তান্ডব জানান দিয়েছে নগরীর পাঁচ তারা হোটেল এর সামনে থেকে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ৪ সদস্যকে পুলিশের সামনে থেকে ছিনিয়ে আনার মধ্যে দিয়ে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্বেও তাকে প্রশাসন আইনের আওতায় না আনার এ অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এবার প্রকাশ্যেই তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে বলে সচেতন নাগরীকদের অভিমত।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!