বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১০ অপরাহ্ন

ad 02

কালজয়ী লেখক মীর মশাররফ হোসেন (১৭১তম জন্মবার্ষিকী)

কালজয়ী লেখক মীর মশাররফ হোসেন (১৭১তম জন্মবার্ষিকী)

নবীন চৌধুরী
বাংলার প্রথম সারির মুসলিম সাহিত্যের অন্যতম ও গদ্যের কালজয়ী শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ইংরেজী ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন।
তার জন্মস্থান কুষ্ঠিয়া জেলার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অধীন গড়াই নদীর তীরের লাহিনী পাড়ায়। তার বাবার নাম ছিল মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ও মার নাম ছিল দৌলতুনেছার। লেখকের চার ভাই ও এক বোন ছিল।মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন মা-বাবার প্রথম সন্তান। তার পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন তৎকালীন নবাবদের অধীনস্থ কর্মচারী ছিলেন। তাদের পারিবারিক উপাধি ছিলো ‘সৈয়দ’ কিন্তুু তার পূর্বপুরুষরা নবাব সরকারের অধীনে চাকরি করার সময়ে পদমর্যদায় ‘মীর’ উপাধি পান। সেই থেকেই নামের আগে‘ মীর’উপাধি থাকতো।
মীর মশাররফ হোসেন বাল্যকালে প্রথমে নিজগৃহ এবং ১৮৫২- ০৩’ খ্রিঃ দিকে আরবি- ফার্সি নিয়ে শিক্ষা লাভ করতে থাকেন। তিনি প্রথমে নন্দীর পাঠশালায় ভর্তি হয়ে বাংলার উপরে পড়াশুনা শুরু করেন। ১৮৬০ খ্রিঃ লেখকের মা মারা যান। ১৮৬১খিঃ তিনি কুমারখালী ইংরেজী স্কুলে ভর্তি হন এবংএরপর রাজবাড়ী জেলার পদমদী হাইস্কুলেও ১৮৬৩ খ্রিঃ কৃষ্ণ নগরে কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। এ কৃষ্ণ নগর থেকে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে কলকাতা বেড়াইতেআসেন। সেখানে তার বাবার বন্ধু নাদির হোসেনের বাড়িতে উঠেন। মৌলভী নাদির হোসেন মীর মশাররফ হোসেনকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে থেকে তিনি পড়ালেখা শিখতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে লেখক মীর মশাররফ হোসেন নাদির হোসেনের দ্বিতীয় কন্যা আজিজুন্নেসাকে ১৮৬৫ খ্রিঃ ১৯ মে তারিখে বিবাহ করেন। কিন্তু বিবাহ বেশিদিন টিকে থাকলো না। ৮/৯ বছর পরে তিনি বিবি কুলসুম নামে আরেক মেয়েকে বিবাহ করেন। পরবর্তী জীবনে তিনি যেমন ‘আমার জীবনী’ নামক সুবৃহৎ আতœজীবনী লেখেন, তেমন ‘বিবি কুলসুম’ নামকও একখানি জীবন রচিত করেন।
মীর মশাররফ হোসেন জীবন চরিত্রের বিভিন্ন দিক থেকে যা পাওয়া যায়, তাতে
তিনি কলকাতার ‘সংবাদপ্রভাকর’ পত্রিকার কুষ্টিয়াস্থ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। ১৮৯০খ্রিঃ এপ্রিল মাসে লোহিনী পাড়া থেকে ‘হিতকারী’ নামে পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।১৮৯৮খ্রিঃ জুল্ইা মাসে মাসিক ‘কহিনূর’ পত্রিকার পরিচালক সমিতির যোগ দেন। সে সময়ে মুসলিম লেখকদের বাংলা লেখার উপরে খুবই কম সাহিত্য প্রকাশ হয়েছে। একমাত্র মীর মশাররফ হোসেনের লেখা প্রকাশ পেতে থাকে পত্র-পত্রিকায়। এছাড়া তিনি নবাব সরকারের অধীনে নবাবদের সেরেস্তায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি একাজে দক্ষতার সাথে কাজ করে গেছেন। তার কর্মদক্ষতার কারণে তৎকালীন নবাব সরকার তাকে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার গজনবী এষ্ঠেটে ম্যানেজার দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। রাজবাড়ি জেলার পদমদী এষ্ঠেটের মালিক নবাব মীর মহম্মদ আলী তার জ্ঞাতী ভাই ছিলেন। সেই সূত্র এখানে তিনি এষ্ঠেটের কিছু অংশ ভোগ করেন। নবাব সরকারের এষ্ঠেটের কাজে ফাকেঁ তিনি সামন্য সময়ে পেলেই নিজকে সাহিত্য কর্মে নিয়োজিত রাখতেন। দীর্ঘ চল্লিশ বছর সাহিত্য সাধনার পর তিনি রচনা করেন সাহিত্যের এক অমর গ্রন্থ ‘বিষাদ সিন্ধু’। ‘বিষাদসিন্ধু গ্রন্থ ছিল লেখকের জীবনের সাহিত্য সাধনার সবচেয়ে গৌরব উজ্জ্বল অধ্যায়। এ মহাগ্রন্থটি জন্যেই লেখককে বাঙালি পাঠক সমাজে চিরস্মরনীয় করে রেখেছে। এই গ্রন্থটি ‘মহরম পর্ব’ বাংলা ১২৯১খ্রিঃ প্রথম, এরপর ১২৯৪খ্রিঃ ১লা শ্রাবন ‘ উদ্ধার পর্ব’ ও ১২৯৭খ্রিঃ ‘এজিদ বধ পর্ব’ প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হবার পর বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যিক অঙ্গনে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে। এমনি ভাবে শুদ্ধভাষা ও মূলবান গ্রন্থ কোন মুসলমান লিখতে পারেন, এই ধারনা কারো জানা ছিল না। এজন্যে এ গ্রন্থখানি বিশেষ বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। এতে বিখ্যাত গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামতনু লোহিড়ী ও রাম প্রাণগুপ্ত এর মতসাহিত্যিগণ মীর মশাররফ হোসেনের প্রতিভার বিশেষ প্রশংসা করেন। এত তিনি সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। একশত ৩৪ বছর হয়েছে এ ‘বিষাদ সিন্ধু’ গ্রন্থটি লেখা। এখনও চির অমর হয়ে আছে পাঠকের মনে। ‘ বিষাদ সিন্ধু’ ছাড়াও তিনি বহু উপন্যাস, নাটক, রসরচনা গান, প্রবন্ধ শিশুপাঠ
কবিতা, গদ্য ইত্যাদি রচনা করেন। লেখকের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে রতœাবতী (১৮৬৯), জমিদার দর্পন(১৮৭৩),বসন্তকুমারী(১৮৭৩), বিষাদ সিন্ধু মহরম পর্ব(১৮৫৫), উদ্ধারপর্ব(১৮৮৭), এজিদ বধ পর্ব (১৮৯১), সঙ্গীত লহরী(১৮৮৭), হজরত বেলালের জীবনী(১৯০৫), বাজীমাত (১৯০৮), উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯৯) ইত্যাদি। লেখকের অনেকগুলো পান্ডুলিপি রয়েছে যা প্রকাশ করা প্রক্রিয়া চলছে। এমহান সাহিত্যনুরাগী কৃতী সন্তান লেখক ৬৫ বছর বয়সে ইংরেজী ১৯১১ সালে ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ি জেলার পদমদীতে মৃত্যু বরণ করেন।

(সাংবাদিক ও লেখক)

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!