বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন

ad 02

বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুরের আ’লীগে ফেরার নেপথ্যে…

বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুরের আ’লীগে ফেরার নেপথ্যে…

বিএনপির টিকিটে মেয়র নির্বাচন। নির্বাচনে জিতে ৫ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক) ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দল বদলিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কেনা।

বলছি চসিকের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের কথা। বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক এ উপদেষ্টা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চাইছেন।

তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসন (পাহাড়তলী, হালিশহর ও খুলশী) থেকে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

শনিবার ঢাকার ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিনি।

এ আসনের বর্তমান সাংসদ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আফছারুল আমীন। তিনিও এ আসনে লড়াই করতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।

মনোনয়ন ফরম কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে মনজুর আলম বলেন, তার পক্ষে চাচাতো ভাই আবুল কালাম আজাদ মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্যই মনোনয়ন ফরম কিনেছি।

বিএনপির সাবেক মেয়রের আওয়ামী লীগে ভেড়া ও তার নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহের নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের ইশারা আছে। তার ঘনিষ্ঠজনরা এমনটিই জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মনজুর আলমের ভাষ্য, ‘অবশ্যই আগ্রহ আছে। সে জন্যই মনোনয়ন ফরম নিচ্ছি। এর বেশি আপাতত বলব না।’

বিএনপি ছেড়ে কেন আওয়ামী লীগে ফিরলেন-এমন প্রশ্নে মনজুর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আর কোথায় যাব? আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ আছে? আমার ঘর তো এটিই (আওয়ামী লীগ)।

১৯৯৪ সাল থেকে টানা ১৭ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা (বর্তমানে প্রয়াত) এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পুরো সময় মহিউদ্দিনের পরিষদে ছিলেন দক্ষিণ কাট্টলী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম মনজুর আলম।

মনজুর আলমের বাবা আবদুল হাকিম কন্ট্রাক্টর ছিলেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যও ছিলেন।

মহিউদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তার বিশ্বস্ত হিসেবে বেশ কয়েকবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মনজুর। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থার সময় মহিউদ্দিন যখন জেলে যান, মনজুর তখনও ভারপ্রাপ্ত মেয়র। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্ত হওয়ার পর গুরু-শিষ্যের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

সেই দূরত্বের জেরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০১০ সালের ১৭ জুন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে দাঁড়ান মনজুর। প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি-সমর্থিত মনজুরের কাছে হেরে যান তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী।

নির্বাচনে জেতার পর মনজুরকে দেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার পদ।

বিএনপির রাজনীতিতে গেলেও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন, বঙ্গবন্ধু ও সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন তিনি।

এদিকে ওই নির্বাচনের বছরখানেক পর থেকেই মহিউদ্দিনের সঙ্গেও দূরত্ব কমে আসে মনজুরের। পরে তাদের মধ্যে আবারও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়র থাকাকালে মনজুরের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হলেও মহিউদ্দিনের কণ্ঠে কখনই তা শোনা যায়নি।

আর মনজুরের মধ্যেও ছিল শ্রদ্ধা ও আনুগত্য। চসিকের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অতিথি করতেন মনজুর। এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করেছে। মৃত্যুর আগে মহিউদ্দিন মনজুরকে আওয়ামী লীগে ফেরাতে উদ্যোগী ছিলেন।

এর পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও মনজুর আলম ভোটগ্রহণ শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় ‘কারচুপির’ অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

এর পর তিন বছর ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় মনজুর আলম কেবল বঙ্গবন্ধু জন্ম-মৃত্যু দিনে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘মোস্তফা হাকিম ফাউন্ডেশনের’ পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখেন। যুগান্তর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!