বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১০ অপরাহ্ন

ad 02

অসাধু ইজারাদারের কারণে বন্ধ হতে যাচ্ছে জাজিরার মিরাশার চাষি বাজার

অসাধু ইজারাদারের কারণে বন্ধ হতে যাচ্ছে জাজিরার মিরাশার চাষি বাজার

মো.জাবেদ শেখ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি::
চাষি বাজারে সমবায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা করছে, এমন অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছে একটি অসাধু ব্যবসায়ী মহল। তাদের দাবী মধ্যস্থ-ভোগী কিছু ব্যবসায়ী চাষি বাজারের কৃষক নিয়ে করছেন বাণিজ্য।

এদিকে বাজার স্থানান্তর হলে ২-১ বছরের মধ্যে অনেক কৃষক কৃষি কাজ ছেড়ে দিবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। কৃষি বাজার সমবায় সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ চাষি বাজারে এসে নানান রকম হয়রানি করেন চাষীদের।

জানা যায়, এই চাষি বাজারটি স্থানীয় সরকারের সহায়তায় ২০০৮ সালে প্রান্তিক কৃষকদের সার্বিক উন্নয়ন ও উন্নতির কথা চিন্তা করে হাজারো কৃষকদের উপস্থিতিতে মিরাশার কৃষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কার্যক্রম শুরু হয়। লক্ষ ছিলো অসহায় গরিব, অবহেলিত কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন। শ্লোগান ছিলো বাঁচাও কৃষক, বাঁচাও দেশ। বাঁচবে কৃষক বাঁচবে দেশ এই লক্ষ্যকে নিয়ে অধ্যবদি বাজারের কার্যক্রম চলছে। তৎকালীন সময় বাংলাদেশে সেনাবাহিনী কৃষকদের উৎপাদিত ন্যায্য দামে বিক্রি করার জন্য ২টি ট্রাক্টর সহ নগদ ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। মিরাশার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিঃ সমবায় অধিদপ্তর কতৃক নিবন্ধিত।

এ বাজারে কৃষক ও ক্রেতার কাছ থেকে কোন টোল বা খাজনা নেয়া হয় না। তাই ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে লাউ, বেগুন, করল্লা, ধুন্দল সহ বিভিন্ন পণ্য কাটা সবজি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে।

এই চাষি বাজার থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডুবিসায়বর বন্দর, কাজীরহাট এখানে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। ওই এলাকায় যে সব ফসল ফলে তা দুই দিনে বিক্রি করা সম্ভব না হওয়ায় তা পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়। তার উপর ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে খাজনা, টোল আদায় করা হয়। এদিকে মিরাশার কৃষি বাজারে খাজনা ও টোল মুক্ত থাকায় প্রতিদিন হাট বসাতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের লাভ হয়। যার ফলে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। সেই সাথে ফসলও বেশী ফলাচ্ছে।

মুলত এই কারনেই বাজারটি ধংশ করার পায়তারা করছে কাজীরহাটের ইজারাদার মকলেছুর রহমান মাদবর সহ সিরাজ ফকির ও জিয়া মেম্বার গং। তারা বাজারটি বন্ধ করতে আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করেন। যাতে করে এই চাষি বাজারটি চীরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমান এই বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মকলেছুর রহমান গংদের কাজীরহাট বাজারে আসতে বাধ্য করেছে।

আবার আইন অমান্য করে সপ্তাহে দুই’দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসার কথা থাকলেও তারা প্রতিদিন হাট বসিয়ে কৃষকের কাছ থেকে পন্য ক্রয়-বিক্রয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টোল ও খাজনা।

মিরাশার চাষি বাজার ঘুরে আলাপকালে কৃষক আব্দুল আজিজ মাদবর, আলমাস হাওলাদার, তোতা মিয়া সরদার, গিয়াস উদ্দিন মাঝি, আলি আশ্রাব সরদার সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কৃষক ক্রেতারা নিউজ৭১অনলাইনকে বলেন, আমাদের এই মিরাশার চাষি বাজারটি কৃষক এবং ক্রেতার জন্য খুবই সহজ লভ্য ৷ মহা-সড়কের পাশে খোলা মেলা জায়গায় এসে, যে কেউ কিনতে এবং বিক্রি করতে পারে। এই বাজারটিতে কোন খাজনা অথবা তোলা না থাকার কারনে কৃষক তার কৃষি পণ্য বিক্রি করে ন্যায্য টাকা ঘরে নিতে পারে ৷ কিন্তু কিছু অসাধু লোক এই চাষি বাজারটাকে কাজির হাটে স্থানান্তর করে শোষণ করার জন্য উঠে পরে লেগেছে।

শুধু তাই নয় তারা কাজির হাটের উপর দিয়ে কৃষি কাঁচামাল আনা নেওয়ার সম্পুর্ণ নিষেধ করে দিয়েছে ৷ তাই অনেক কৃষক বহু কষ্ট করে অনেক দূর ঘুরে মিরাশার কৃষি বাজারে আসে। কৃষকদের যদি এই হয়রানি বন্ধ না করা হয় এবং বাজার স্থানান্তরে যদি তারা সফল হয় তবে দুই এক বছরের মধ্যে অনেক কৃষক কৃষি কাজ ছেড়ে দিবে।

কাজির হাটে কৃষি বাজার স্থানান্তর হলে আর কি ক্ষতি হতে পারে জানতে চাইলে তারা বলেন, কাজির হাটে শতকরা দশ টাকা হারে খাজনা দিতে হয়, তোলা দিতে হয়,বাজারে প্রর্যাপ্ত যায়গা নেই। সপ্তাহে দুইটা হাট হয়ে থাকে সেই সময় খুব যানজট সৃষ্টি হয় ৷ কিন্তু মিরাশার এই কৃষি বাজারে এমন কোন সমস্যা নাই ৷ তাই এই সব সমস্যার কারনে কৃষক কাজিরহাটে যেতে অনিচ্ছুক৷ তারা শোষনের হাত থেকে মুক্ত থাকতে চায় ৷

বিষয়টি জানতে চাইলে কাজির হাটের ইজারাদার মোখলেসুর রহমান বলেন, মিরাশার কৃষি বাজারটা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে লেখা আছে কোন প্রকার আড়ৎদার, মজুতদার মধ্যোভোগি কোন ব্যক্তি থাকতে পারবে না কিন্তু তারা আদালতের রায় অমান্য করে আড়দদার হয়ে কৃষি কাচামাল ক্রয় বিক্রিয় করে শতকরা তিন টাকা হারে খাজনা নিচ্ছে ৷ আর আমরা ৮০ লক্ষ টাকা ইজারা নিয়ে শতকরা পাঁচ টাকা হারে খাজনা নেই৷ এই দুই টাকা কমের জন্য কৃষক মিরাশার বাজারে ঝুঁকছে ৷ যার ফলে আমাদের বাজারে খাজনা কম ওঠে ৷ এমন যদি হতে থাকে, আর আমরা যদি পর্যাপ্ত টোল কালেকশন করতে না পারি তবে আগামিতে কেউ ইজারা নিবে না যার জন্য সরকার হারাবে রাজস্ব৷

কৃষকের কাঁচা মালের যাতায়াতে বাঁধা দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন,এটা মিথ্যা,আমরা কোন কৃষককে বাধা দেই নাই ৷

জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, মিরাশার কৃষি বাজারের উপর হাইকোর্টের একটা রিট হইছে ৷ এই রিটে মহামান্য হাইকোর্ট আমাদের বিবাদি করছে,হাইকোর্টের রীটকারি হচ্ছে কাজির হাটের ইজারাদার,এই মিরাশার বাজার সমবায় নীতি ২০১৩ এর নীতিমালা লংঘন করে বাজারটা চলতেছে ৷ যেখানে কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে বেচাকেনা হবে এবং আরতদার, ভেসালদার মধ্যস্থ কোন ব্যক্তি থাকতে পারবে না ৷ কিন্তু মিরাশার বাজারে দেখা যায় ৩০/৪০ জন মধ্যস্থ ভোগী কাজ করতেছে গোপনীয় ভাবে ৷ এতে আরতদার লাভবান হচ্ছে ৷ হাইকোর্টের সাবডিভিশন তাদের আইডিনটিফাই করে তাদেকে উৎখাত করা এবং সেখানে আমাদেরকে একটা রুলইসি করে সোকস করে আমাদের জবাব দাখিল করতে হবে৷ এই জন্যই আমরা তাদেরকে বলেছি, আপনার কেই মধ্যস্থভোগী থাকতে পারবেন না৷

শরীয়তপুর জাজিরা মিরাশার চাষী বাজার যখন সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই বাজারটি নিজেদের দখলে নিতে পায়তার কারছে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা। এলাকার মানুষের দাবী, এই সরকার কৃষি বান্ধব তাই, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। চাষি বাজারের লক্ষ ও উদ্যেশ্য বাস্তবায়ন করে অসহায় গরিব, অবহেলিত কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন করার।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন,কৃষি জাত পণ্য বিপণন এবং ভোক্তা পাওয়ার সুবিদার্থে এই বাজারটি চলমান রাখা জরুরি, তা না হলে দেখা যাবে যে একটা পর্যায় হাজার হাজার মণ কৃষি পণ্য নষ্ট হয়ে কৃষক খতিগ্রস্থ হবে৷

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র বলেন, কোর্ট যদি মনে করে বাজারটি থাকলে কোন সমস্যা হবে, তাহলে কোর্ট যেই নির্দেশনা দিবে আমরা আমাদের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে কাজ করব৷

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!