বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

ad 02

গাইবান্ধা সদর -২ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আসন দখলে নিতে চায় বিএনপি

গাইবান্ধা সদর -২ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আসন দখলে নিতে চায় বিএনপি

 

আতিকুর রহমান আতিক  জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা ঃ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। ১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ পৌর সভা নিয়ে গাইবান্ধা-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০০। জেলা সদরের আসনটি সব দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চান সব দলই। মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা দলের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন। একাদশ
স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী লুৎফর রহমান, ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের (মালেক) প্রার্থী লুৎফর রহমান, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ রউফ মিয়া, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আঃ রশীদ সরকার, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আঃ রশীদ সরকার, ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী লুৎফর রহমান, ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মাহবুব আরা বেগম গিনি, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব আরা বেগম গিনি।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মহাজোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমডোর শফিকুর রহমানকে পরাজিত করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি অংশ না থাকায় সেবার সহজ বিজয় হয়। কিন্তু এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ আলাদা বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এখন পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে জোটবদ্ধ নির্বাচনই এবার হবে। সেক্ষেত্রে জোটের দৌড়ে কোন দলের ভাগ্যে ছিকে ছিড়বে তা এখনই বলার সময় আসেনি। সেজন্য দলগতভাবে নির্বাচনের ছক নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গ্রহণযোগ্যতার বিচারে কে দলের প্রার্থীতার সুযোগ পাবে সে নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষন চলছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
ক্ষতাসীন আওয়ামীলীগ গাইবান্ধা-২ আসনটি এবারও তাদের ঘরেই রাখতে চায়। তাই প্রার্থীতার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা বেগম গিনি অগ্রগামী অবস্থায় রয়েছেন।

এ আসনে তিনি ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সৈয়দ শামসুল আলম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্লাহ হারুণ বাবলু, যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক মন্ডল, সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর জামান রিংকু, সদর উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা সদস্য এবং বাংলাদেশের প্রথম স্পীকার শাহ আব্দুল হামিদের নাতি শাহ সারোয়ার কবির ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মানিক ঘোষ মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের জেলা সভাপতি শামসুল আলম হিরু ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি মহকুমা ছাত্রলীগেরও সভাপতি ছিলেন। তিনি ত্যাগী এবং জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। একাত্তুরের অগ্নিঝড়া দিনে স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরী ময়দানে তিনি পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি পরিচিত। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আমেরিকায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান।

এদিকে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকতে হচ্ছে। জেল-জুলুম মামলা হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা এখনো আশায় বুক বেঁধে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা দিন ফিরবে সেই সাথে জনগণের সমর্থনও রয়েছে। তাই আগামী দিনের স্বপ্ন দেখার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের অংশ গ্রহণের প্রত্যাশায় নেতাকর্মীরা আন্দোলনের পাশাপাশি ঘর গোছানর কাজেও ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়নের পাশাপাশি কর্মী সভা করে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছেন তারা। সেই সাথে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি এবং গন সংযোগের কাজও তারা সারছেন। এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সভাপতি খন্দকার আহাদ আহমেদ। খন্দকার আহাদ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরতন্ত্র ও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নামক একটি সংগঠনের তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিটের আহবায়ক ও সভাপতি হন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,যুগ্ন আহবায়ক এবং সর্বকনিষ্ট কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ঢা.বি ইউনিট ও কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত করেন। খন্দকার আহাদ আহম্মেদ গনতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সদস্য সচিব হিসাবে ১৯৯৪-৯৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। খন্দকার আহাদ আম্মেদ এর পিতা মরহুম আজিজার রহমান অবিভক্ত ভারত বর্ষে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। তিনি মুসলিম লীগ ,আওয়ামী মুসলিমলীগ এবং আওয়ামীলীগের নেতা ছিলেন । তিনি জেলখানা থেকে স্বাধীন দেশে গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাচন করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচন হন। খন্দকার আজিজার রহমান ১৯৭৮ সালে জাগদল থেকে শুরু করে জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও বি.এন.পি গাইবান্ধায় মহুকুমা কমিটি প্রতিষ্টায় একক ভুমিকা পালন করেন। মরহুম খন্দকার আজিজার রহমানের ব্যক্তি ইমেজে কিছুটা খন্দকার আহাদ আহমেদের বিএনপির ভোট ব্যাংক আছে। খন্দকার আহাদ আহমেদ গত ৯ বছর ধরের বিএনপির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন। বিভক্ত জেলা বিএনপিকে একত্রে করার ক্ষেত্রে তার অবদান অপরিসীম। গত ৮ ফ্রেবুয়ারী বেগম খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুনীর্তির মামলায় জেল হলে খন্দকার আহাদ আহমেদ তার নেতা কর্মীসঙ্গে নিয়ে রাজ পথে নামলে তিনিসহ ২৫ জন বিএনপির নেতা কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। দীর্ঘ এক মাস ১০ দিন জেল খাটার পর আইনী লড়াইয়ে জামিনে মুক্তি পান।গাইবান্ধা সদর আসনের শহর ও গ্রাম অঞ্চলে ব্যাংপক পরিমান গন সংযোগ করছেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপি’র মুখপাত্র ভয়েজ অব বিএনপি’র ধানের শীষ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দলের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টক শোর মাধ্যমে জন সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন দল নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনটি দলের চেয়ারপার্সনকে উপহার দিতে পারবে বলে আশাবাদী

এছাড়া সাবেক জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক আনিছুজ্জামান খান বাবু দলের কাছে এই আসনটির জন্য মনোনয়ন চাইবেন।

এ আসনে জামায়াতের অবস্থান কিছুটা রয়েছে । তাদের কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম নেই। তাদের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে ২০ দলীয় জোটের পক্ষেই তারা কাজ করবে বলে তাদের একটি সূত্র জানিয়েছে। তাদের সমর্থন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষেই থাকবে বলে জানা গেছে। এক সময় জাতীয় পার্টির দূর্গ বলা হতো গোটা গাইবান্ধা জেলাকেই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাষ্ট্রপতি এরশাদ কারাগারে গেলেও সদর আসনটি ওই দলেরই ছিলো। একানব্বই এবং ছিয়ানব্বই এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এ আসনটি ধরে রাখে। দলের প্রেসিয়িাম সদস্য এবং জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার এ আসনে পর পর দু’বার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও মহাজোটগত কারনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুকুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পরও দলীয় চেয়ারম্যান এরশাদের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে নিশ্চিত। দলে তার বিকল্প নেই। আর কোন প্রার্থীও নেই। দলের চেয়ারম্যান গাইবান্ধা-২ সদর আসনে ইতিমধ্যে তার নাম ঘোষণা করেছেন। দলটি এবার এ আসনটি আর ছাড় দিতে রাজী নয়। আব্দুর রশিদ বলেন, আর ছাড় নয়। ছেড়ে দেয়া আসনটি এবার পুনরুদ্ধার করতে চাই। এরশাদ প্রিয় জনগণও এ আসনটি জাতীয় পার্টির ঘরে এবার পৌছে দেবে বলে তিনি নিশ্চিত। তবে সাধারন মানুষ দ্বিধাদ্বদ্ধে রয়েছেন জাতীয় পাটিকে নিয়ে। মহাজোটের সঙ্গে জোট বাধার পর মাঠ পর্যায়ে দলীয় তৎপরতা না থাকায় জাতীয় পাটি থেকে মুখ ফিরে নিচ্ছেন।

এছাড়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ, সিপিবি ও বাসদ তাদের নিজস্ব প্রার্থীর কথা ভাবছে। এক্ষেত্রে জাসদের জেলা সভাপতি মুক্তিযুদ্ধো শাহ শরিফুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মনা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। অপরদিকে সিপিবি দলের প্রেসিয়িাম সদস্য ও জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)’র সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম মিঠু, দলীয় মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!