বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঘোষণা -:
নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালযয়ে আবেদিত। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩, নিউজ৭১অনলাইন সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে মোবাইল ঃ- ০১৭১৪২৭৭৬৮,০১৭১০-৯৫৯৮৯৫ অথবা  [email protected] ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে পারেন

ad 02



কলড্রপ আর চাঁদাবাজ একই সূত্রে গাঁথা

কলড্রপ আর চাঁদাবাজ একই সূত্রে গাঁথা



আজহার মাহমুদ::

মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে কোনো কারণ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এর নামই কলড্রপ। সাধারণ মানুষের কাছে এর নাম চাঁদাবাজি। আর এর যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষ বড়ই ক্লান্ত। এ যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাবে সধারণ মানুষ সেটাও কারো জানা নেই। আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়নের নির্ধারিত মান অনুযায়ী বেতার তরঙ্গনির্ভর মোবাইল নেটওয়ার্কে ৩ শতাংশ কলড্রপ গ্রহণযোগ্য। অথচ বাংলাদেশে কলড্রপের হার ৩ শতাংশের অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে কলড্রপ অনিবার্য একটি বিষয়। কারণ গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অনুপাতে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং হালনাগাদ করা হয়নি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ বা আইসিএক্স রাখার কারণেও ওই এক্সচেঞ্জের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় কলড্রপ হচ্ছে। এক অপারেটরের কল অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্কে আনুপাতিক হারে বরাদ্দের কাজটি করে আইসিএক্স। কিন্তু পুরো দুনিয়াতেই এই আনুপাতিক বরাদ্দের কাজটি মোবাইল অপারেটররা নিজেরা করে। শুধু বাংলাদেশেই এ জন্য পৃথক আইসিএক্স অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলের জন্য গ্রাহককে যেমন বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে, তেমনি নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত একটা স্তরের জন্য সেবার গুণগত মানও খারাপ হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একই সময়ে লেনদেন বেড়ে যাওয়ার কারণেও নেটওয়ার্কের ওপর প্রবল চাপ পড়ছে। এর ফলেও কলড্রপ হচ্ছে। কলড্রপের এই অভিযোগ মোবাইল অপারেটররাও স্বীকার না করে পারেন না। কারণ কম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে অনেক বেশি সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিচ্ছেন তারা। যার ফলে তারা নিজেরাও জানে তাদের পক্ষে কলড্রপ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে বড় কারণ- যে হারে মোবাইল গ্রাহক বেড়েছে, সে হারে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, হালনাগাদ বা সম্প্রসারণ না হওয়া। অধিক গ্রাহকের চাপ নেটওয়ার্ক নিতে পারছে না। মোবাইল নেটওয়ার্কে গ্রাহকের জন্য মানসম্পম্ন সেবা নিশ্চিত হচ্ছে কি-না তা দেখার দায়িত্ব টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির। বিটিআরসি সেবার গুণগত মানের একটা ‘মানদন্ড’ নির্ধারণ করতে পারে এবং সেই মানদন্ড কতটা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, সেটা বিচার করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বিটিআরসি সে দায়িত্বটা পালন করছে না। আমাদের দেশে মোবাইল অপারেটরদের অনেকগুলো সেবাদাতার ওপর নির্ভর করতে হয়, যেমন, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) ও ট্রান্সমিশন কোম্পানি (এনটিটিএন)। ফলে এদের যে কোনো একটির সমস্যার কারণেও কলড্রপ হয়। বাংলাদেশ সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে সবচেয়ে কম তরঙ্গ দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে হচ্ছে। অথচ আমরা নাকি ডিজিটাল দেশের নাগরিক! ভাবতেও অবাক লাগে। একটি ডিজিটাল দেশের মানুষ কখনো এমন ভোগান্তি কখনো মেনে নিতে পারে না। তাহলে আর বাংলাদেশে ডিজিটাল হলো কই? দেশের মানুষতো নামে ডিজিটাল চায় নাই, চেয়েছে কাজে ডিজিটাল দেশ। আর এই সমস্যার জন্য অনেকটাই সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেন মোবাইল অপারেটরের মালিকগন। সরকার অতিরিক্ত তরঙ্গ বরাদ্দ করলে এবং বেতার তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করার সুযোগ দিলে গ্রাহক সেবার মান অনেক উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তাদের বিশ্বাস। তাই সরকারের উচিৎ এই সমস্যা সমাধান করে সাধারণ মানুষকে একটু শান্তি দেওয়া। আপনার আমার কাছে এটা সামান্য বিষয় হলেও, যারা দিন মজুর খেটে খায় তাদের কাছে এটা অনেক কিছু।
পরিশেষে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এই সমস্যা সমাধানে সুনজর দেন, তবে এই মারাত্বক সমস্যা থেকে সাধারণ গ্রাহকরা মুক্তি পাবে এবং স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারবে।

লেখক: আজহার মাহমুদ
প্রবন্ধিক ও ছড়াকার
শিক্ষার্থী, বিবিএ. (অনার্স), হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (২য় বর্ষ), ওমরগনী এমইএস কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
ইমেইল: [email protected]

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন



ad03






– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!