বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:২০ অপরাহ্ন

ad 02

তফসিলের পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা নয়

তফসিলের পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা নয়

ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার। তবে তফসিল ঘোষণার পর সরকারের কার্যপরিধি কমে যাবে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে বলেছেন। সরকারি গাড়িসহ সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার কথা বলেছেন। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারকালে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন না মন্ত্রী বা এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তফসিল ঘোষণার পর এ সরকারের কার্যপরিধি কমে যাবে। গত নির্বাচনের আগে ছোট আকারে নির্বাচনকালীন সরকার করার কথা ভাবা হয়েছিল। কারণ তখন সংসদে বিএনপি ছিল। তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আনার জন্য সে চিন্তা করা হয়েছিল। এবার সংসদে বিএনপি নেই। ফলে অনির্বাচিত কাউকে রাখা যাবে না। তাই এ সরকার আর ছোট করার দরকার নেই।

রফতানি নীতি অনুমোদন : বাণিজ্যে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে রফতানি নীতি-২০১৮-২১-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) আইন, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কার্যাবলি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, রফতানি নীতি হালনাগাদ করে নতুন নীতি করা হয়েছে। আগের নীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সংজ্ঞা বিষয়ক একটি পৃথক ও নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে এবং নমুনা, সুগন্ধী চাল ও পরোক্ষ রফতানির মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডেনিম, একটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) এবং রি-এজেন্ট (চামড়া, অ-চামড়া এবং সিনথেটিক থেকে তৈরি জুতা)-এর মতো তিনটি নতুন খাত যোগ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সংখ্যা ১৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হালকা প্রকৌশল পণ্য (মোটরসাইকেল, ব্যাটারি), ফটোভলটাইক মোডিউল (সোলার এনার্জি), কাজু বাদাম (কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত), জ্যান্ত ও প্রক্রিয়াজাত কাঁকড়া এবং খেলনার মতো পাঁচটি নতুন পণ্য বিশেষ উন্নয়নভিত্তিক খাত হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওয়েট ব্লু চামড়ার উপজাত পণ্য ওয়েট ব্লু স্পিট লেদারকে রফতানিযোগ্য পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন রফতানি নীতিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রণোদনা হিসেবে বিদ্যমান ৪০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাড়ল বিআরটিসির মূলধন : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) মূলধন বাড়িয়ে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শফিউল আলম বলেন, ‘১৯৬১ সালের আইন দিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছিল, ওটাকে হালনাগাদ করে নতুন আইন করা হচ্ছে। আগে কর্পোরেশনের অনুমোদিত মূলধন ৬ কোটি টাকা ছিল। নতুন আইনে হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ১০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে তা বিভক্ত হবে।’

সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন : ‘সুগারক্যান ইন্সটিটিউট আইন’-এর নাম বদল করে নতুন আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর নাম ‘বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন-২০১৮’। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘শুধু আখ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৬ সালে সুগারক্যান গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন হয়। কিন্তু আরও অনেক কিছু থেকে সুগার হতে পারে।

এজন্য নাম বদল করে সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট করা হচ্ছে।’ নতুন আইন অনুযায়ী আখ, সুগার বিট, খেজুর, স্টেভিয়া, পাম ও অন্যান্য মিষ্টিশস্য চিনিশস্য হিসেবে পরিচিত হবে।

কমেছে জনশক্তি রফতানি, বেড়েছে রেমিটেন্স : বিদেশে জনশক্তি রফতানির হার কমলেও রেমিটেন্স বেড়েছে বলে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ১২৮ জনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৬ হাজার ৯২৬ জন কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪ জনকে বিদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিটেন্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। শফিউল জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয়, আমদানি-রফতানি, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও পরিমাণ বেড়েছে। মাথাপিছু জাতীয় আয় গত বছরের এক হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।’ শফিউল আলম জানান, গত অর্থবছরে মোট ৪১ দশমিক ০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে কমে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। বৈঠকে কাঠমান্ডুতে সাফ ইউ-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলায় পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে পরাজিত করায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানানো হয়। পাশাপাশি ‘প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ’-এর প্রকাশিত বইয়ের কপি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়।

ট্যানারি শিল্পনগরী ও ২টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি দূষণ রোধে শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়ার জন্য ট্যানারি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ট্যানারি শিল্পনগরী উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, ‘শিল্প স্থাপনে আমাদের সবসময়ই দূষণের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ এবং সিরাজগঞ্জে বিএসসিআইসি শিল্প পার্ক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিরাজগঞ্জে অবস্থানরত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মুন্সীগঞ্জ ও সাভারের স্থানীয় এমপি, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী, বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে ট্যানারি শিল্প মালিকদের সুপারিশকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে এপিআই শিল্প পার্ক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী দেশে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিল্প পার্কে ওষুধ শিল্পের জন্য কাঁচামাল উৎপাদন করতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের একশ’র বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। আমাদের চামড়াজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে বিদেশে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা না ঘটলে অনেক আগেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ হতে পারত। সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর পথই অনুসরণ করছে। যুগান্তর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!