বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:২৬ অপরাহ্ন

ad 02

গণতান্ত্রিক ধারা থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে

গণতান্ত্রিক ধারা থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী যাদের সাজা দিয়েছি এবং কার্যকর করেছি তারা আবার ক্ষমতায় আসুক বাংলাদেশের জনগণ তা চায় না, আমরাও চাই না। যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে, যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায় আসুক তারাও সেটা চাইবে না। এখন সামনে নির্বাচন, আমরা চাই দেশের যে উন্নয়নটা করতে পেরেছি, গণতান্ত্রিক ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে উন্নয়নও অব্যাহত থাকবে।’ তিনি গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংলাপে নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এখন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বাম জোট আটটি দাবি তুলে ধরে। তার মধ্যে রয়েছে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, ইসি পুনর্গঠন, ইভিএম ব্যবহার না করা, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ইত্যাদি। আড়াই ঘণ্টা আলোচনা শেষে বেরিয়ে সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘বল এখন প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার ওপরই নির্ভর করে নির্বাচনটি কেমন হবে।’

সংলাপের শুরুতে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা যেখানে বাংলাদেশ রেখে এসেছিলাম সেখান থেকে বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন বিশ্বমন্দা ছিল। এর মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। ২০১৩ সাল থেকেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে অগ্নিসংযোগসহ নানা নাশকতা করা শুরু করে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আপনারা যদি বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রটা দেখেন তাহলে নিশ্চয়ই এটা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে আমরা উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’

সংলাপে বাম জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী ও আলমগীর হোসেন দুলাল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোমিনুর রহমান বিশাল, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রণজিৎ কুমার।

সংলাপে বাম জোটের লিখিত বক্তব্যে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, মানুষের ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসা আওয়ামী লীগ আজ জনগণের অবাধ ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। এই অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের বড় অংশের মধ্যে এখনো পর্যন্ত গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলেও মনে করে বাম জোট।

বাম জোটের সঙ্গে সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেক কিছুতেই আমাদের মতের সঙ্গে তারা একমত, কিছু কিছু ভিন্নমতও আছে। আমাদের নেত্রী তাদের সব কথা শুনেছেন। ভিন্নমত উপস্থাপনের জন্য নেত্রী তাদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন।’

‘শেখ হাসিনাকেই চায় ইসলামী দলগুলো’

দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আটটি ইসলামী দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ হয়। পরে ব্রিফিংকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গত ১০ বছরে যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইসলামী দলগুলোর নেতারা। আগামী দিনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফিরে আসবেন, এ ব্যাপারে তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে—এ কথা তাঁরা অকপটে বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আদর্শ সমুন্নত রাখার ব্যাপারে সংলাপে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। ইসলামী দলগুলো সংবিধানসম্মত নির্বাচন সমর্থন করে।’

সংলাপে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা সুজা, বাংলাদেশ জালালি পার্টির চেয়ারম্যান আহমদ চৌধুরী জালালি, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় ইসলামী জোটের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্শেদ হাওলাদার, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফা আমীর ফয়সল, আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্যপরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি সাইয়েদ আলম নূরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের চেয়ারম্যান মাওলানা আতাউল্লাহ প্রমুখ সংলাপে অংশ নেন।

আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষে সংলাপে অংশ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ।

সংলাপ শেষে বেরিয়ে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। দেশের চলমান উন্নয়ন গতিশীলতা পায় সে লক্ষ্যে আমরা অঙ্গীকার করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চলমান ধারাকে শক্তিশালী করতে চাই। আমরা চাই গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে। আমরা আশা করি, সরকার একটি সুন্দর, সাবলীল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দান করবে।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!