বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৩২ অপরাহ্ন

ad 02

বেতারে জনপ্রিয়তা

মাহমুদুল হক আনসারী
তের ফেব্রুয়ারী বিশ্ব বেতার দিবস পালন করা হয়। পৃথিবীর অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবস উদযাপন করা হয়। বেতার অর্থ তারবিহীন যন্ত্র। বেতার বলতে জনগণ বুঝে রেডিও এফএম তরঙ্গ। সারা দুনিয়ায় এ বেতার যন্ত্রের জনপ্রিয়তা ছিলো অনেক পুরনো। বেতার তরঙ্গে দুনিয়ার মানুষের রক্তনালির সাথে সম্পৃক্ত। আজ হতে কয়েক যুগ পূর্বে যখন ইন্টারনেট ছিলনা,তখন দুনিয়ার মানুষ বেতার তরঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তের সংবাদ শুনতো বেতারের মাধ্যমে। সু-সংবাদ দুঃসংবাদ, ভালো আর মন্দ, আনন্দ বিনোদন, ব্যাথা বিরহের গান, আনন্দ উপভোগ করতো এ মাধ্যম হতে। ইন্টারনেট, অনলাইন, চ্যানেল এন্টিনা তখন ছিলোনা। এখন তথ্য প্রযুক্তির আশির্বাদে মানুষ তথ্য চ্যানেলে ঝুঁকে পড়ছে। দুনিয়ার ভালোমন্দ ন্যায় অন্যায় সুবিধা অসুবিধার সংবাদ চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে সাথে সাথে পেয়ে যাচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকতায় কিছুটা বেতার তরঙ্গে ভাটা পড়লেও অজগাঁ গ্রামে বেতারের জনপ্রিয়তা কম নয়। দুনিয়ার যত সব বেতার ষ্টেশন আছে তা কিন্তু বন্ধ হয়নি। নতুন নতুন বেতার ষ্টেশন গড়ে উঠছে। সে সময় বেতার ষ্টেশন ও বেতার ডেভলাপ কিছুটা দুর্লভ ছিলো। বর্তমান সময়ে বেতার ষ্টেশন সরকারের পাশাপাশি অনেকগুলো বেসরকারী ষ্টেশন দেশে বিদেশে স্থাপিত হয়েছে। দেশে সরকারী ষ্টেশনের সাথে পাল্লা দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা নানা নামের বেতার তরঙ্গ চালু হয়েছে। তখন এফ এম রেডিও দিয়ে বেতার তরঙ্গ শুনতে হতো। এখন রেড়িও ছাড়া মোবাইল সেটেও বেতার তরঙ্গ শুনতে পাওয়া যায়। এ যুগে ইন্টারনেটের সাহায্য বেতারের সুবিধা আরো সহজ হয়েছে। বেতার তরঙ্গ জনপ্রিয় হওয়ার বিভিন্ন দিক আছে, তন্মধ্যে বিদ্যুতের সংযোগ না থাকলেও বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীর সব খবর ও বিনোদন পেতে পারে। বেতারের কারণে মানুষ যে কোনো স্থানে তার ছাড়া প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। দেশ বিদেশের সংবাদ বিনোদন গ্রহন করছে, পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার পাচ্ছে। নানা সামাজিকও রাষ্ট্রীয় অনুষ্টান উপভোগ করছে। বেতারে সরাসরি ছবি দেখা না গেলেও কন্ঠের মাধ্যমে আনন্দ বিনোদন সংবাদ শ্রোতাগণ পেয়ে যাচ্ছে। একেবারে শহর গ্রাম, গিরিপর্বত সাগর নদীতেও অবস্থান করে জনগন এর সুফল নিতে পারছে। দেশে যখন বন্যা সাইক্লোন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরী হয়, তখন রেড়িও বেতারের কদর হয় সবচে বেশী। প্রতিটি ঘরে ঘরে বাসায় দোকানে মার্কেটে, বেতারের ডিমান্ড বেডে যায়। ঘন্টায় ঘন্টায় মিনিটে মিনিটে বেতার সংবাদের মাধ্যমে জনগন আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুনতে পায়। আমাদের মতো অনুন্নত যে সব দেশ আছে তাতে বেতার তরঙ্গের জনপ্রিয়তা ও চাহিদার শেষ নেই। বেতার এখন শুধু বিনোদন নয়। বেতার সংবাদ ও খবর জনগনের নিত্যদিনের সাথী। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন অগ্রগতির প্রসারে এ তরঙ্গ ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।শিশু নারী বাল্যবিবাহ, যৌতুক জন্মনিয়ন্ত্রণসহ নানা সমাজ সংস্কারমূলক অনুষ্ঠান এখানে প্রচার হয়। জাতীয় বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে দেশে সকাল বিকাল রাত পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান বেতারের মাধ্যমে প্রচার হয়। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, মাদক এবং সরকারের নানা উন্নয়ন অগ্রগতির সংবাদ প্রচার হয়ে থাকে। ইভটিজিং নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ অনুষ্টান চলতে থাকে। ফলে গ্রামের কৃষক শ্রেনীর মানুষ দৈনন্দিন তাদের কৃষিকাজকর্মের পরামর্শ পেয়ে যায়। মানুষ রেড়িও অনুষ্টানের মাধ্যমে সমাজের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। রেড়িও অনুষ্টানের সফলতায় শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী চিন্তাবিদ মানুষ সেখান থেকে সমাজ উন্নয়নে জন উপকারে অনুষ্টান করে থাকে। বিনোদন ও আনন্দের জন্য অনুষ্ঠানতো আছেই। দেশী বিদেশী অনেক গুলো বেতার তরঙ্গ তাদের সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ষ্টেশনের গুরুত্ব কমছেনা। বরং সময়ের তালে তালে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারী বেসরকারী বেতার সংবাদে কিছুটা ভিন্নতা আছে।সরকারের বেতারে সরকার ছাড়া অন্য কোনো সংবাদ গুরুত্ব পায়না। সরকারের সবগুলো সংবাদ আর অনুষ্টানে সাজানো হয়। অন্যদিকে বেসরকারী বেতার ষ্টেশন থেকে মোটা মোটি বিনোদনের সাথে রাষ্ট্রীয় ও অন্যসব দল ও মতের কথা ও বলা হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক গুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেতার ষ্টেশন জনকল্যাণে ভূমিকা রাখছে। যেখানে সব দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানকে তুলে এনে সমাজে খবর হিসেবে প্রচার করে।সেখানে বস্তনিষ্ট সংবাদ বুলেটিন আলোচনা সমালোচনা করে জনমত তৈরী করা হয়। সমাজকে দিক নির্দেশনা পেতে সাহায্য করে। দেশের সংবাদ যখন সঠিক সময়ে জনগন পায়না তখন শ্রুতাগন অন্যদেশের বেতারষ্টেশনে ঝুকে পড়ে। সেখান থেকে জনগন তাদের জরুরী সংবাদ পেয়ে যায়। এখন তথ্য পাওয়া ও জানার যুগ। এ সময় কেউ তথ্য গোপন করার মতো সুযোগ নেই। কোনোনা কোনো দিকে সমাজের ভালো মন্দের সংবাদ বেরিয়ে যায়। ফলে কেউ সেটা গোপন করলেও অন্য আরেকটি মাধ্যম হতে তা বেরিয়ে পড়ে। তাই শ্রুতা এখন যে দিকে তথ্য নির্ভর সংবাদ আর বিনোদন পায় সে দিকেই ঝুকে পড়ে থাকে। দেশের রাষ্ট্রীয় বেতারকে আরো জনবান্ধব করতে রাষ্ট্রীয় সংবাদের সাথে সব দল ও গোষ্ঠীর সংবাদ খবরা খবর প্রচার পেলে এ বেতার তরঙ্গ আরো সমাদৃত ও জনপ্রিয় হবে। পৃথিবীর অন্য কোথাও পক্ষপাতিত্বের প্রচারের সংবাদ জানা নেই।কোথাও এ ধরনের সংস্কৃতি না থাকলেও এ দেশে সরকারী প্রচার মাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের সংস্কৃতি চালু আছে। সব ধরনের মত ও মানুষের সংবাদ বিনোদন সমানতালে প্রচার পেলে এ প্রচার মাধ্যমের জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে। অনুষ্টানের মান উপস্থাপনা ভাষা আরো মার্জিত ও উন্নত হওয়া দরকার। সময়পোযোগী অনুষ্ঠান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দেখতে চায় শ্রুতাগণ। অনুষ্ঠান সাজাতে ও বাস্তবায়নে মেধাবী মানসম্মত অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চায় শ্রুতাগন। বেতারকে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে বেসরকারী বেতারের সাথে সরকারী এ বেতার তরঙ্গকে সমপোযোগী করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসা চাই। ঐতিহ্যবাহী এ বেতার আরো জনপ্রিয় করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হউক।
লেখক
মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক,প্রাবন্ধিক
ইমেইল:[email protected]

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ad03




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!