বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:০১ অপরাহ্ন

ডাক বিভাগের সুদিন ফিরুক

ডাক বিভাগের সুদিন ফিরুক

সফিউল্লাহ আনসারী
ডিজিটাল যোগাযোগের দাপট চলছে বিশ্বজুড়ে। সেই হাওয়া লেগেছে আমাদের দেশেও। বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার আর ডিজিটাল সামগ্রীর সহজলভ্যতা আমাদের জীবনকে গতি দিয়েছে।

দিয়েছে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। দেশ-বিদেশে চিঠিপত্র, টাকা ও পণ্য পাঠাতে কাজ করে ডাক বিভাগ।

এখনও কাজ করছে, তবে তা খুবই মন্থর গতিতে। দেশে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে এই জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমটি।

একসময় ডাকযোগে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ছাড়া বিকল্প কোনো মাধ্যমের কথা চিন্তা করা যেত না। ইদানীং ই-মেইল-ইন্টারনেটের যুগে সেই ডাক বিভাগের গুরুত্ব আর রানারের চিঠি বিলির ব্যস্ততা খুব একটা নেই।

হাতের কাছে ইন্টারনেট, ই-মেইল, ফেসবুক-টুইটারসহ নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দাপটে এখন আর হাতেলেখা চিঠি কেউ পাঠায় না। আর প্রাপকও অপেক্ষা করেন না তার প্রিয়জনের চিঠির জন্য। মোবাইল ফোনও এই চিঠি না লেখার অন্যতম কারণ।

মোবাইলের এসএমএস ও হ্যালোতেই বন্দি আজ চিঠির প্রয়োজনীয়তা। যদিও এখনও আমাদের দেশের বিভিন্ন অফিস-আদালতের ফাইলপত্র আদান-প্রদান ডাক মারফত করা হয়। হলুদ খামের চিঠি আর পোস্ট অফিস ও ঐতিহ্যের প্রতীক ডাকবাক্স এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না।

যাও দু’একটা দেখা যায় সেগুলো জীর্ণশীর্ণ। পোস্ট অফিসগুলো হারাচ্ছে জৌলুস। প্রশ্ন জাগে, তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের প্রাচীনতম এই যোগাযোগ মাধ্যমটি?

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের জীবন ও কর্মকাণ্ড ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ বাঁচলেও কিছু বিষয়ে আমাদের দূরত্ব বেড়েই চলেছে। অনলাইনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের প্রজন্মকে যান্ত্রিক জীবনের স্বাদ দিলেও আন্তরিকতা, মায়া-মমতাকে অনেকাংশে তুচ্ছ করছে।

মনে হচ্ছে, আমরা ক্রমেই যান্ত্রিক সভ্যতার টানে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহারের দিকে যাচ্ছি। অথচ আমরা ইচ্ছা করলে আমাদের ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ধরে রাখতে পারি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে এখনও জনপ্রিয় করা যায়। অথচ তা হচ্ছে না।

একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিস জমজমাট ব্যবসার পাশাপাশি জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। একসময় টাকা পাঠাতেও ব্যবহার হতো পোস্ট অফিস। মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলেও এখন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর হওয়ায় মানুষের পোস্ট অফিস যাওয়ার প্রবণতা কমেছে।

কুরিয়ার সার্ভিসগুলোয় মানুষের ভিড়। আস্থা আর উন্নত সেবার কারণে বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান পোস্ট অফিসগুলো দিন দিন হারাচ্ছে তার জৌলুস।

ডাক বিভাগে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগলেও দক্ষ জনবল আর প্রচারের অভাবে এই বিভাগের বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেশিরভাগ ডাকঘরের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। গ্রামাঞ্চলের ডাকঘরগুলোর অবস্থা বেশি নাজুক। গ্রামে অনেক ডাকঘরের নেই নিজস্ব ভবন। ফলে মূল্যবান ডিজিটাল সামগ্রী রাখা যাচ্ছে না।

ডাক বিভাগের লোকসান কাটিয়ে ওঠার একটাই উপায়- সঠিক ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা, ডিজিটাল সামগ্রীর ব্যবহার, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানো, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজস্ব পাকা ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎহীন এলাকায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা, দ্রুত সময়ে চিঠি আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা।

মোদ্দাকথা, বাস্তবতার আলোকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে ডাক বিভাগের উত্তরণ ঘটানো দরকার। সেই সঙ্গে পোস্টমাস্টারদের (ইউনিয়ন পর্যায়ে) বেতন-ভাতার পরিমাণ যুগোপযোগী করাও সময়ের দাবি। ফিরে আসুক ডাক বিভাগের সুদিন।

সফিউল্লাহ আনসারী : গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপনের জণ্য ০২২




– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

© All rights reserved © 2018 news71online.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com