বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

ঘোষণা -:
নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালযয়ে আবেদিত। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩, নিউজ৭১অনলাইন সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে মোবাইল ঃ- ০১৭১৪২৭৭৬৮,০১৭১০-৯৫৯৮৯৫ অথবা  info.new[email protected] ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে পারেন

ad 02



সাম্প্রতিক বাল্যবিবাহ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা ও করণীয়

সাম্প্রতিক বাল্যবিবাহ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা ও করণীয়



সাহিদা সাম্য লীনা

আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ এমন এক সমস্যা যেকোন পরিবার থেকে এক সময় ছিলো এ কাজটি সেরে ফেলতো। যত জলদি মেয়ে অন্যের ঘরে পাঠানো যায়। একটা ভাল ঘর পরিবার পেলে অভিভাবকের ঘুম হারিয়ে যায়। পাত্রও অস্থির হয়ে পড়ে কখন বিয়ের মালা বালিকার গলায় পড়াবে! কচি মেয়ে ছেলেদের বরাবরই পছন্দ। তবে সময় এখন পাল্টেছে। অনেক ছেলের রুচি বদলেছে। চিন্তা চেতানায় হৃদয় প্রসার করতে শিখেছে। বালিকা বিয়ে যে অন্যায় একজন সত্যিকারের শিক্ষিত ছেলেকে বোঝাতে হয়না। মেয়ের বয়স বিশ হলে সে কি বুড়ো হয়ে পড়ে? এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে অনেকে বেরিয়ে এসেছে। দেশের ছেলেরা অনেকে বেকার। বেকার তারা ইচ্ছাকৃত না।বেকারত্বের কারণেও অনেক ছেলে বিয়ে থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখে। একটা সমস্যার উপর আরেক সমস্যা তারা চিন্তাও করেনা। তবে নিজেদের বয়স বাড়ছে, কখন সংসার করবে ,কখন সন্তান হবে এই ভাবনা তাদের মনে আসাও স্বাভাবিক।
কিন্তু যারা বালিকা,কচি মেয়ে বিয়ে করার জন্য বসে থেকে শারিরীক মানসিকভাবে তাদের বিধ্বস্ত করতে ভবিষ্যত নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি করছেন। তা আপনারা কখনোই ভাবেন না। এজন্য পাত্র ও অভিভাবককে কয়েকটি আহ্বান হোক,
বাল্যবিবাহ নিজ থেকেই না করুন।
নিজে সিদ্ধান্ত নিন ছোট বালিকা শাদী করবেন?
না তাদের শারীরিক, মানসিক ভাবে বেড়ে উঠতে সহযোগীতা করবেন?
সব মেয়েই এখন স্কুলে যায়। পড়তে চায়। আনন্দ চায়।……. আমাদের কিশোরীরা আগামীর এক একটা নক্ষত্রের জননী। ওদের শিখতে দিন, ওরা যে নক্ষত্রদের প্রথম গুরু।
সব দোষ ঐসব অভিভাবক দের, যারা ছোট্ট বালিকাদের বিয়ে পড়াতে, তড়িঘড়ি করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে চায়!

কড়চা-১
বালিকাদের বোঝাতে গিয়ে বিপরীত সমস্যা
সেদিন সিদ্ধেশ্বরীর এক দোকানে নাস্তা খাচ্ছি।
পাশে কপোত-কপোতী ও তাদের এক দোস্ত।
খুব গর্বের সহিত কপোত তার কপোতীকে বলছে এই জান আমাদের এক ওসি বলেছে প্রবাসীদের বিয়ে না করতে। কপোতী বললো ও হ্যেঁ ভিডিও টা আমিও দেখেছি।এ বিষয়ে ব্যখ্যা করে তারা হাসলো তাদের আবেগে। বুজলাম ইনারা পুলিশ বাহিনীর সদস্য। সিভিল পোশাকে ঘুরতে বেরিয়েছে। যা হোক,
পাশেই শুনে আমি ওদের মুখের দিকে উন্মুখ । আমি কেবল শুনতে চাচ্ছিলাম ওরা ঘটনাটা কোথায় তা বলছেনা কেন! আমার তাকানো স্টাইলে ওরা থেমে গেল। তারা সেল্পি নিয়ে বেরিয়ে গেল।
আহা! আমার জেলায় কমর্রত ওসি বাল্যবিবাহ বিরুদ্ধে কী বলতে গিয়ে এক হিসাবে ফেমাস! স্পর্শ কাতর বিষয় আরেকটা স্পর্শকে ধাক্কা দিবে কে জানতো!
আহারে! আমার ফেনীর ঝড় রাজধানীর মোড়ো মোড়ে।

কড়চা -২ প্রবাসীদের প্রতি
আপনার সিদ্ধান্ত পারে এমন বিয়ে করা থেকে পরিবারকে বিরত রাখা । একজন আপনার দেশী বালিকার জন্য নিজের সাময়িক সুখ ত্যাগ জরুরী।
দেশের ছেলেরা হচ্ছে ফকির, কামলা, আলসিয়া। এদের কাছে সহজে মেয়ে পাত্রস্থ’ করতে চায়না অভিভাবক। এরা বিয়ে করতে সময় লাগে। এ সুযোগে, মেয়েরা বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় পাবে। পড়ালেখা করে আত্মনির্ভর ও শারিরীক, মানসিক ভাবে পরিপূর্ণ হবে।
আর প্রবাসীরা সোনার হরিণ। টাকার খনি, হাতের মোয়া। অভিভাবক লোভী। মেয়ে ও প্রবাসী দুজনকেই বিপদে ফেলে নিজেরা কী সুখ খুঁজে বুঝিনা।
মেয়েটা বাবামা এর বিরুদ্ধে শুনে আবার অন্য বিপদ না ঘটায়। অবুঝ তো। টিনএজ তো! আবেগের বয়স তো! তাই দায়িত্ববানরা এগিয়ে আসে। উদাহরণ টানে। রুপকথার মতো একটু ঘুরিয়ে। বা¯তবকে মিশাতে হয় কিছু বাস্তবতা দিয়ে। অল্প বয়সীরা নাজুক প্রকৃতির। ওদের আবেগকে কিছু সংশ্লিষ্ট কথার ভেতর না নিলে বুঝবেনা। তাদের আবেগের কাছে নিজেদের শিশু বানিয়ে ফেলা কখনো উচিত না।
তাই আমাদের দেশের জন্য, দশের জন্য, আমাদের কিশোরীদের জন্য আর একটা ত্যাগ ভাবি। আপনারাই তো রেমিট্যান্স দিয়ে দেশটা চালান। অবুঝ কিশোরীরা আপনাদেরই সম্পদ। আপনাদের ভবিষ্যত। আপনাদেরও কন্যা আছে। তাই সুযোগ দিন, সময় দিন। কিশোরীরাই তরুণী হয়ে সিদ্ধান্ত নিবে কামলা নিবে, না সোনার হরিণ!

কড়চা- ৩
আমার শৈশব সময় হতে দেখে আসছি বেকারত্বের চিত্র। অর্থাৎ এদেশে এটির ইতিহাস প্রাচীন। বেকারত্বের জন্য কোন ছেলে দায়ী না। দায়ী আমাদের পরিকল্পনায়। সরকার এটির জন্য তেমন কোন পদ্ধতি রাখেন নাই যে পাশ করেই বা যে কেউ যখন তখন চাইলে চাকুরী জুটে যাবে। কেউ ইচ্ছা কৃত বেকার থাকেনা। একজন সুস্থ পুরুষ, শক্তি সামর্থ্য , যোগ্যতা,ইচছাশক্তি থাকার পরেও চাকরীটা নিতে পারেনা সহজে। তার পিছনে ছুটতে ছুটতে পিতার কামাইকেও চুষে ফেলতে হয়। সাথে যৌবন, স্বাদ আহলাদ তো আছেই। অনেক ছেলের ইতিহাস ঘাটলে স্ব -হৃদয়টা বিদারক হবেনা কেবল, কাঁদবে প্রকৃতিও।
বালিকাদের কোমল মনে আমাদের শব্দ, বাক্য উচ্চারণে সংযত হতে হবে, কেননা এখান থেকে সে যা শিখছে, শুনছে তাও বড়দের হতে একটা শিক্ষা….

লেখক ঃ সাহিত্যিক,সাংবাদিক। ফেনী।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন



ad03






– প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ই-বুক –

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!