বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১০ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি-
কোচিং ফি’র অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।এ টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হ”েছ না কোনো রশিদও।এতে বিপাকে পড়েছেন অস্ব”ছল পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধানশিক্ষকের যোগসাজসে এ অর্থ আদায় করা হ”েছ। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন বেবস্তা নেয় নি প্রশাসন।আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ চলাকালীন এ বাড়তি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফরম পূরণে শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফি’র সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোচিং কিংবা অতিরিক্ত ক্লাস করানোর অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি এক থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
সরজমিনে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, এসএসসি পরিক্ষার ফরম ফিলাপের সময় কেন্দ্র ফি, স্কুলের উন্নয়ন ও কোচিং ফি জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ৪ মাসের বেতন বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ ৩ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া নির্বাচনি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে জামানত নেওয়া হয়েছে। আমরা বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ফরম পূরণ করতে হয়, ফরম পূরনের টাকা পরিশোধ করলেও রশিদ পারছি না।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা পরিবার থেকে টাকা নিয়ে আসি কিন্তু ফরম পূরনের টাকা জমা দিয়ে গেলেও অভিভাবকদের টাকা জামাদানের রশিদ দেখাতে পারি না। অনেক শিক্ষার্থীর ফরম পূরনের টাকা পরিশোধের জন্য অভিভাবকরা মহাজনের নিকট হতে চড়া সুধে অথবা ধার কর্জ করে টাকা সংগ্রহ করে ফরম পূরনের টাকা পরিশোধ করছেন বলে জানান।
নাম প্রকাশে অনি”ছুক অভিভাবকরা জানান, একই উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে ফি আদায়ে লিপ্ত রয়েছে। তাদের এহেন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে নিজেদের সন্তাদের ক্ষতি হবে। এই কারনে তারা মুখ বুঝে সহ্য করে যা”েছন। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তদারকি করলে এমনটি হত না বলে জানান সচেতন অভিভাবকরা। যদিও সরকারে উ”চ পর্যায় হতে বার বার কোচিং বানিজ্য ও অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধের নিদেশ দিলেও উপজেলা পর্যায়ে কোন ভাবে তা বন্ধ হ”েছ না বলেই মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৫ শত টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে।
এছাড়া সারাদেশে এবার ফরম পূরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাঠে নেমেছেন।নির্ধারিত ফি’র বাড়তি টাকা আদায় করলেই দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬-এ অভিভাবকদের জানানোর জন্য বলা হয়েছে।অথচ এতো কড়াকড়ির পরও এই উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই ফরম পূরণ চলাকালীন কোচিং কিংবা অতিরিক্ত ক্লাসসহ বিভিন্ন ফি’র অজুহাতে টাকা আদায় করছে।
এবিষয়ে জানতে হরিপুর বহুমূখী উ”চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজির আলী সরকার জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ৩,১০০ টাকা, মনবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩,০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ফরম পূরনের ১,৮৫০টাকা, ২ মাসের কেচিং ফি ৮ শত টাকা কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা ২০১৯ সনের জুন মাস পর্যন্ত মাসিক ফি আদায় করাছি, ব্যাবহারিক খাতার জন্য ১০০টাকা, ইন্টারনেট খরচ ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের আরও বিভিন্ন খাত আছে এই কারণে আমরা রশিদ দিছি না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন চন্দ্র বিশ্বাস ও জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা জাফরিন বলেন- বিজ্ঞান বিভাগে ৩,২০০টাকা এবং মনবিক ও বানিজ্য বিভাগে ৩,১০০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে ২ মাসের কেচিং ফি ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং ২০১৯ সনের জুন মাস পর্যন্ত মাসিক ফি আদায় করছি, টিফিন খরচ ১০০ টাকা।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের যৌথ মতামতের ভিত্তিত্বে বোর্ড ফির অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। ফরম পূরণের পাশাপাশি কোচিং ও অতিরিক্ত ক্লাসসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি বাড়তি ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।
(এই বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নোটিশ বোর্ডে দেখা যায় বিজ্ঞান বিভাগে ১৪০০টাকা, মনবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩৫০টাকা র্নিধারণ করা হয়েছে।)
এবিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলেমান হোসাইন এর সাথে ফোন আলাপ করলে তিনি অপারক হয়ে বলেন- কোন বাবে অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না। তার পরও কোন বিদ্যালয় অতিরিক্ত ফি আদায় করলে আমি কিছু জানিনা, আমার সাথে হরিপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আছেন উনার সাথে কথা বলেন।সরকারি নির্দেশনাটি আমি সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষদের কাছে পৌছে দিয়েছি যাহাতে কেউ অতিরিক্ত ফি আদায় না করে।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম বলেন- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরনের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইন আনুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

নিউজ ৭১ অনলাইন ২০১১সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে।। আবেদিত নিবন্ধন সিরিয়াল নং ৯৩
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Don`t copy text!