নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

ব্যাংকে লুট করার মতো টাকা নেই : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। সারা বিশ্ব আজ অবাক হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই, এটা ঠিক নয়। টাকা আছে, কিন্তু লুট করার মতো টাকা নেই।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পুরক বাজেটের ওপর অর্থমন্ত্রীর পক্ষে সমাপনি বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি বাজেট বাস্তবায়নই করতে না পারি তাহলে ২০০৮ সালের ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট থেকে এখন কীভাবে ৫ লাখ কোটি টাকার উপরে বাজেট দিলাম? এই টাকা আসলো কোথায় থেকে? এর উন্নয়নটা তো সারাদেশের মানুষ পাচ্ছে। কাজেই অযথা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিএনপিসহ বিরোধী দলের সদস্যদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বলেন, অনেকে ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেনো? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নাই। আর ব্যাংক খেবে যারা লুট করে নিয়ে গেছেন তাদের আমরা চিনি। অনেকেই তো প্রচুর টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। দুর্নীতির দায়ে কারাগারে বন্দী আছেন। সময় আসলেই এ ব্যাপার আলোচনা করতে পারবো। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে উচ্চাবিলাসী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বিদায়ী অর্থবছর ২০১৮-১৯ সম্পূরক বাজেটের উপর সাধারণত অর্থমন্ত্রী সমাপনী বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। এবার বাজেট উত্থাপনের মতো ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে সংসদের ইতিহাসে। অর্থমন্ত্রীর অসুস্থ্যতার কারণে সোমবার সম্পূরক বাজেট পাসের আগে সম্পূরক বাজেটের সমাপনী বক্তৃতাও করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তৃতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান স্পিকার। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে জাতীয় সংসদে কন্ঠভোটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পুরক বাজেট পাশ হয়। যা সংসদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যেটি আগে কখনই ঘটেনি।

অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বলছেন বাজেট দিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারে না। বাজেট বাস্তবায়নের মাঝামাঝি সময়ে আমরা একটা হিসেব নিই। কোথায় কোনো খাতে কি বরাদ্দ দিয়েছিলাম, কতটা কার্যকর হলো, কতটা হলো না বা কোন কোন জায়গায় বরাদ্দকৃত টাকা যথাযথ বাস্তবায়ণ করা সম্ভব, আর কোথায় কোথায় সম্ভব না। কোথায় বাস্তবায়নের জন্য বেশি টাকার প্রয়োজন হয় এরপর এটা ঢেলে সাজাই। বাজেটে সেই ক্ষেত্রে পরিমার্জন করি, সংশোধন করি এটাই নিয়ম। যাতে অর্থটা যথাযথভাবে কাজে লাগে। তিনি বলেন, সকল প্রকল্প তো একইভাবে চলে না, চলতে পারে না, চলা সম্ভবও না। এটাই বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, বাজেট দিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারি না, এ অভিযোগ যারা করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- ২০০৮ সালে ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতাম, আজ সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেটে উপরে চলে গেছে। এতো বড় বাজেট কীভাবে দিলাম, যদি বাস্তবায়নের দক্ষতাই না থাকবে? তিনি বলেন, বাস্তবতার কারণেই বাজেটে কিছুটা সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়। প্রতি বছরই এটা করে থাকি। এটা শুধু আমাদের দেশে না সকল দেশেই হয়ে থাকে।

বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। যে বিদ্যুতের এতো উন্নয়ন হলো, তাহলে শতভাগ হয় না কেনো? জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে বিদ্যুত প্রকল্পগুলো সবগুলো সবসময় চালু থাকে না। প্রত্যেকটা বিদ্যুত কেন্দ্র মাঝে মাঝে নতুনভাবে সংস্কার করতে হয়, যে কারণে বন্ধ থাকে। যেখানে যতটুক চাহিদা সেই চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুত দেওয়া হয়। আজকে দেশের ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুত পাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছে যাচ্ছে।

সমাপনি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের যেসব সামষ্ঠিক অর্থনৈতিক অনুমান সমূহের উপর ভিত্তি করে প্রণিত হয়েছিল, পরবর্তিতে বৈশ্বিক নানা ঘটনার কারণে সেসব সামষ্ঠিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিছুটা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের মূল বাজেট প্রণয়নকালে সামষ্ঠিক জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অনুমান করেছিলাম। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে অনুমান করছি।

তিনি বলেন, সপ্তম পঞ্চবাষির্ষিকী পরিকল্পনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ণয় করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যা সাফল্যজনকভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হব বলে আশা করছি। অপরদিকে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমান করা হলেও সংশোধিত মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রাক্কলিত জিডিপি ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ কোটি টাকার পরিবর্তে কিছুটা কমিয়ে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা অনুমান করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এটা খুব স্বাভাবিক নিয়মেই হয়ে থাকে। মূল্যস্ফীতির ব্যাপারে বলবো, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবার কথা। কিন্তু যেহেতু আমরা বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অত্যন্ত সতর্ক তাই সব সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।

17.06.2019 | 09:15 PM | সর্বমোট ১১৫ বার পঠিত

ব্যাংকে লুট করার মতো টাকা নেই : প্রধানমন্ত্রী" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত

আজ শুক্রবার বেলা সোয়া তিনটার ‍দিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের অরুণাচল...... বিস্তারিত

19.07.2019 | 05:43 PM


রাজধানী

রাজধানীর শ্যামপুরে বিদেশি পিস্তল রিভলবার ম্যাগাজিন ও গুলিসহ গ্রেফতার ৩

রাজধানীর শ্যামপুরে অভিযান চালিয়ে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ২টি বিদেশি রিভলবার, ৭টি ম্যাগাজিন ও ১২৮ রাউন্ড গুলিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা...... বিস্তারিত

19.07.2019 | 05:51 PM

চট্টগ্রাম

হালদা দূষণের দায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা

ভারী বৃষ্টির মধ্যে বর্জ্য তেল নিঃসরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী দূষণের অভিযোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং...... বিস্তারিত

17.07.2019 | 08:52 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

বিনোদন

নাইটক্লাবে শাহরুখ কন্যার ভিডিও ভাইরাল

এখনও বলিউডে পা রাখেননি। তাতে কি। বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান কন্যা সুহানা খান নানাভাবে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন।শাহরুখ কন্যা বলেই তাকে...... বিস্তারিত

16.07.2019 | 08:25 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ