বিল্লাল হোসেন প্রান্ত,ময়মনসিংহ ব্যুরো

দিন বদলের প্রত্যয়ে বদলে গেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া

এক্সকুসিভ ফুলবাড়ীয়া ॥ বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা জুড়ে পরিকল্পিত ও কাঙ্খিত উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র খোলা চোখেই ধরা পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের সনদ ২০২১ রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন ফুলবাড়ীয়ার মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ এড. মোসলেম উদ্দিন এমপি। তিনি সার্বনিক মিশে আছেন গণমানুষের সাথে। জনকল্যান ও উন্নয়নে।

২০০৯ থেকে ২০১৭ অগ্রযাত্রার ৯ বছরে দিন বদলের প্রত্যয়ে বদলে গেছে ফুলবাড়ীয়ার দৃশ্যপট। বঙ্গবন্ধু সরকারের গণপরিষদের কৃতি সদস্য বর্তমান সরকার আমলসহ ৫ বারের এমপি আলহাজ এড. মোসলেম উদ্দিন সার্বিক উন্নয়নের এই ধারা সূচনা করে যাচ্ছেন।
ফলে দৃশ্যমান বাস্তবতায় চোখে ধরা পড়ে বদলে যাওয়া ফুলবাড়ীয়তে। গত ৯ বছরে ৩ শতাধিক প্রকল্পে প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে উপজেলাটিতে। পর্যবেক মহল এই উন্ন্য়ন ধারাকে বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী বলে মন্তব্য করেছেন ।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ৯ বছরের উন্নয়ন প্রগতির এ গতিধারা সম্প্রসারিত হয়েছে ফুলবাড়ীয়ার ১৩ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা জুড়ে। ব্যাপক সারা ফেলেছে জনমনে। জামায়াত উধ্যুষিত উপজেলা ফুলবাড়ীয়ায় বর্তমান সরকার উন্নয়নে যে নজির রেখেছেন, বিশ্লেষকদের মতে ফুলবাড়ীয়া উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে দুর্বার।

ফুলবাড়ীয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবাদ পুরুষ বঙ্গবন্ধু সরকারের গণপরিষদ সদস্য ও ৫ বারের নির্বাচিত এমপি আলহাজ এড. মোসলেম উদ্দিন এখানে অভিসংবাদিত নেতা। ফুলবাড়ীয়ার আওয়ামী লীগ দূর্গ তার হাতেই গড়ে উঠেছে । তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফুলবাড়ীয়া এগিয়ে যাচ্ছে ২০২১-২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।

আলহাজ এড. মোসলেম উদ্দিন নেতৃত্ব এগিয়ে যাওয়া ফুলবাড়ীয়ার উন্নয়ন প্রবাহ ও উদ্যোগ সমূহ তাই ফুলবাড়ীয়াবাসীর কাছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাকে আরো সুসংহত করছে।
আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক বলয়ে এবং ভোট যুদ্ধে অভিজ্ঞ প্রবীন রাজনীতিক এড. মোসলেম উদ্দিন এমপির আদর্শ ও শুভ রাজনীতির লিডারশীপ তাকে নিয়ে গেছে বিকল্পহীন উচ্চতায়। এখানে বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাব বলয় থাকলেও সংগঠনে সেন্টপার্সেন্ট জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতায় যেমন তার কোন প্রতিদ্বন্দদ্বী নেই; তেমনি জনগণের কাছেও তার গ্রহনযোগ্যতার প্রশ্নে তিনি অপ্রতিদ্বন্দদ্বী।
দলে তার সাথে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় যারা আছেন তারা রাজনৈতিক মাঠে কার্যত: নি:সঙ্গ। বিএনপি ও জামায়াত প্রবন এলাকাটিতে এড. মোসলেম উদ্দিন আওয়ামী লীগ অধ্যূষিত এলাকায় পর্যবসিত করে যাচ্ছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ধারা প্রচারে মোসলেম উদ্দিন একজন অভিজ্ঞ সিপাহসালার। তিনি যতবারই জনগণের সমর্থন ও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন হয়েছেন জয়ী। তার ছেলে এড. ইমদাদুল হক সেলিম বাবার ও সরকারের কর্মকান্ডকে বাস্তবায়ন করতে জনগনকে সাথে নিয়ে স্বপ্নের ফুলবাড়ীয়া রূপায়নে বিভিন্ন পরিসরে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজ এলাকার উন্নয়নের অগ্রাধিকারকে তিনি তার রূপকল্প হিসেবে নিয়েছেন। এবং জনগণকে সাথে নিয়ে পথ চলছেন। মিশে গেছেন ফুলবাড়ীয়ার প্রতিটি প্রত্ত্যন্ত গ্রাম গঞ্জের জনমানুষের সাথে। এখন এমপি এ. মোসলেম উদ্দিন এর লক্ষ্য ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে এড. সেলিম একনিষ্ঠ ও বদ্ধপরিকর।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়, গ্রহনযোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে জরিপ চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনমতের উপরও সমীা চলছে।
ভোট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ফুলবাড়িয়া ভোট চিত্রে যে সমীকরণ চলছে সেটা হচ্ছে সুষ্টষ্টভাবে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচযুদ্ধে অভিজ্ঞ এড. মোসলেম উদ্দিন সমর্থনে প্রবল।
জনধারনা এটি নিশ্চিত যে, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মোসলেম উদ্দিন এমপিই একমাত্র তৃণমূল সমথির্ত প্রার্থী। জনপ্রত্যাশিত প্রার্থীও তিনি। পপুলার ভোটের মাঠের সফল গানিতিক হিসাবে তাকে টপ ফেবারিট প্রার্থীর ইমেজে রাখছে জনগণ। কারণ গত ৯ বছরে তিনি ফুলবাড়িয়াকে কাঙ্খিত উন্নয়নের পথে নিয়ে গেছেন। যার নির্জাস জনগণ পেয়েছে। স্থানীয় এমপির গৃহীত পদক্ষেপের কারনে ফুলবাড়ীয়ার শুধু শহরাঞ্চলই নয় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে ২০ কিলমিটার দূরত্বে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার অবস্থান। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার উত্তরে ময়মনসিংহ সদর, দেিণ ভালুকা ও টাংগাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা, পূর্বে ত্রিশাল, পশ্চিমে মুক্তাগাছা ও টাংগাইল জেলার মধুপুর উপজেলা অবস্থিত হওয়ায় সড়র পথেই যোগাযোগ সংযুক্তি ঘটে থাকে এখানে।

ফুলবাড়ীয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের মাধ্যমে নতুন ৩শ কিলোমিটার পুরাতন ১শ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ ও সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে। ফুলবাড়ীয়া-আছিম-কান্দানিয়া-বগার বাজার ১০ কি.মি. রাস্তা পাকাকরনের মাধ্যমে ভালুকা উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ফুলবাড়ীয়া-রাঙ্গামাটিয়া-গারো বাজারের ৬ কিলোমিটার, ফুলবাড়ীয়া-শিবগঞ্জ-মোটের বাজার এর ১০ কিলোমিটার রাস্তা পাকারনরে মাধ্যমে ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে।
উপজেলার অভ্যন্তরিন আরও ২শ কি. মি. রাস্তা পাকাকরনের কাজ শেষ পর্যায়ে। সড়ক চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন করতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ভালুকজান আখালিয় নদীর উপর, কান্দানিয়া বানার নদীর উপর, রামনগর ক্ষীরু নদীর উপর, পলাশতলী আখালিয়া নদীর উপর, শ্রীপুর কলমদানী নদীর উপর শিবপুর বানার নদীর উপর ৫ টি বড় সেতু নির্মান করা হয়েছে। এরকম আরও ৪টি সেতু নির্মান প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

এছাড়াও উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের নাওগাঁও ইউনিয়ন, পুটিজানা ইউনিয়ন, কুশমাইল, বালিয়ান, দেওখোলা, ফুলবাড়ীয়া, বাকতা, রাঙ্গামাটিয়া, এনায়েতপুর, কালাদহ, রাধাকানাই, আছিম এবং ভবানীপুরের ৪০ টি ছোট সেতু নির্মান হয়েছে। চলমান রয়েছে ১০টি। আরও ২০টি ছোট সেতু নির্মানের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় সহ¯্রাধিক রিং ও বক্স কালর্ভাট নির্মান কাজ করা হয়েছে।
তবে এক্ষত্রে ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় প্রবেশ পথ ও পৌর এলাকার উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তাটির বেহাল দশা নিয়ে এলাকাবাসীর ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বছর ধরে বেহাল দশায় পতিত পৌরসভার কলেজ মোড় থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত রাস্তাটি। রাস্তার এক পাশ দিয়ে করা হয়েছে ড্রেন যা অকার্যকর। এই বর্ষায় গর্তযুক্ত সড়কে পানি জমে চলাচলে তৈরি করছে চরম দুর্বিসহ অবস্থার। রাস্তার পাশে কোন ড্রেন না থাকায় বর্ষায় বৃষ্টির পানি আটকে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ এখানে চরমে চলছে বলে রাস্তাটি বেহাল দশার জন্য এলাকাবাসী সরাসরি পৌর মেয়র গোলাম কিরবিয়াকে দায়ি করেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় এলাকাবাসীর সাথে। জানা গেছে, ময়মনসিংহ ফুলবাড়ীয়া হয়ে কেশরগঞ্জ বাজার, রাঙ্গামাটিয়া ও নাওগাঁও চলাচলের রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এখন পানি জমে পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষক শ্রমিক স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাদা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে বাকতা এলাকার মুনসেফ আলী জানান, এ সড়কে ২ বছরের মধ্যে কোন সংস্কার কাজ হতে দেখিনি। এ কাজগুলো এমপি সাহেব কেন করছেন না জানি না। তিনি বলেন, ফুলবাড়ীয়ার সব রাস্তাই মোটামোটি পাকাকরণ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কিছু রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য এমপি এড. মোসলেম উদ্দিন এর প্রতি মানুষের অভিযোগ উঠছে। শিবগঞ্জ থেকে আছিম পর্যন্ত রাস্তাসহ ফুলবাড়ীয়ার সাথে ত্রিশাল-মধুপুর-মুক্তাগাছা সংযোগ সড়কগুলো ভালোভাবে করে দেয়ায়  স্থানীয় এমপির প্রশংসা করেন মুনসেফ আলী।

নাওগাঁও ইউনিয়নের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবি মো: জুলহাস জানান, কেশরগঞ্জ থেকে তাকে প্রতিদিন বাড়িতে যেতে হয়।  রাস্তা খারাপ থাকায় চলাচলে তাকে প্রতিদিন ভোগান্তী পোহাতে হয়। বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও সমাধান হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, যদিও আমাদের এমপি সাহেব আমার এলাকায় বেশ কয়েকবার এসেছেন। কিন্তু তার ছেলে এড. ইমদাদুল হক সেলিম এখানকার সব বিষয়ের খোজখবর নেন, আসেন। গত ৯ বছরে আমাদের ফুলবাড়ীয়ায় স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, ব্রীজ-কালর্ভাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি রাস্তাঘাটের কিছু সমস্যা এখনো রয়েই গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন জুলহাস।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন জনগনের উপর পড়ে না। যদি ভোট প্রয়োগের নির্বাচন হয় তাহলে আমাদের বর্তমান এমপির উপর এ কারনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আমি মনে করি।

সড়ক ও জনপদের সড়কে এ সমস্যগুলো সমাধানে সম্প্রতি একাধিক সড়ক পুন:নির্মাণ কাজের টেন্ডার হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ কল্পে স্থানীয় এমপি এড. মোসলেম উদ্দিন ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করেছেন। ফুলবাড়ীয়া মহিলা কলেজ, কেশরগঞ্জ কলেজ এবং শাহাবুদ্দীন কলেজকে ডিগ্রী কলেঝে উন্নীত করা হয়েছে। উপজেলার ৬ টি নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে এম পি ও ভূক্ত করা হয়েছে।
৬০ লক্ষ হতে ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০ টি মাদ্রাসা, ৮টি কলেজ বভন নির্মান করছেন। প্রতিটি ৩০ লক্ষ হতে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবণ নির্মান হয়েছে। প্রত্রিয়াধিন রয়েছে আরও ৫০টি। ৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। আরও ৩টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। প্রতিটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হেয়েছে। আরও ১০ টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া আরও ১৮০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টোরসহ যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ীয়ার জনগনের স্বাস্থ্য সেবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। সাথে অবকাঠামো নির্মান ও নতুন ভবন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কারপূর্বক স্বাস্থ্য সেবার কাজ জোরদার হয়েছে। ৫০ টি কমিউনিটি কিনিক পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হেয়েছে। কমিউনিটি কিনিক থেকে ২৮ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। আরও ২০ টি কিনিক স্থাপনের ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় এমপি।  থানা ডিসপেনসারিতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপজেলায় ১৩ জন চিকিৎসকের স্থলে ২৩ জন চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। এমপির পদক্ষেপে ফুলবাড়ীয়ার দীর্ঘদিনের অভিশাপ কালজ্বর নির্মূলে ব্যবস্থা নেয়ায় এখন কালাজ্ব মুক্ত ফুলবাড়ীয়া। এমপির নির্দেশনায় কালাজ্বর রোগীদের বাড়ী বাড়ী খুজে এনে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং প্রতিরোধে ৮ জাহার বিশেষ মশারী দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় এমপি এড. মোসলেম উদ্দিন ফুলবাড়ীয়া পৌরসভাকে ‘গ’ শ্রেনী থেকে ‘খ’ শ্রেনীতে করে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিশেষ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করিয়েছেন। ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর ভবণ নির্মানকরা হয়েছে। ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। আখালীয়া নদীর দুইপাড়ে বেড়ীবাঁধ নির্মান। আধুনিক বাস-ট্রান টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হেয়ছে। ৬০ লক্ষ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নওগাঁও, কুশমাইল, ফুলবাড়ীয়া, কালাদহ, এনায়েতপুরসহ ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্মান করা হয়েছে। 

কৃষি ও বনায়নের সম্প্রসারনের লক্ষে ধান চাষের পাশাপাশি ফুলবাড়ীয়ায় সবজী, মসলা এবং ফল চাষের ব্যাপক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। ন্যায্যমূল্যে সার বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিতের জন্য ওর্য়াডভিত্তিক ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেচের জন্য বিএডিসির মাধ্যমে পুরাতন ডিপটিউবয়েল সস্কার সহ নতুন ডিপটিউবয়েল স্থাপন করা হেয়েছে। সেচের জন্য খাল খনন ও সুইস গেইট নির্মান। ২ কোটি টাকা ব্যয়ে  ২০টি কাল খনন। ২০ লাখ হতে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ টি সুইস গেইট নির্মান করা হয়েছে। কৃষি কাজে আধুনিকায়ন করতে পাওয়ার টিলার, থ্রেসার মেশিন, সিডার, হারভেস্টারসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক মেশনি ভর্তুকির মাধ্যমে প্রচলন করা হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের আওতায় ১ হাজার একর ভূমিতে বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। ১ হাজার কৃষক সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী হিসাবে লাখ লাখ টাকা উপার্জনের সমর্থ হচ্ছে। সেখানে রাবার বাগানের পাশে আগর বাগান, বেত বাগান, গজারী বন, নানান জাতের বৃক্ষরাজি প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সন্তোষপুরে ইকোপার্ক স্থাপন করে বনের পরিবেশ ও পর্যটনের উন্নয়নে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ‘ময়মনসিংহে পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে সন্তোষপুর ইকোপার্ক’ শিরোনামে নিউজ থাকবে পরবর্তীএক্সকুসিভে।

মৎস ও প্রাণি সম্পদে ফুলবাড়ীয়া বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক প্রাণি সম্পদ হাসপাতাল নির্মান করা হেয়ছে।  সেই সাথে ফুলবাড়ীয়ায় ২শ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়নের কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। ১শ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফুলবাড়ীয়া বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ১০ এমভিও থেকে ১৫ এমভিওতে উন্নীত করা হয়েছে। ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আছিমে একটি নতুন বৈদ্যুতিক উপকেন্দ নির্মিত হয়েছে। ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সোয়াইতপুর এবং কেশরগঞ্জে আরও ২ টি বিদ্যুত উপকেন্দ্র নির্মানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুরাতন ৮শ কিলোমিটার বিদ্যুত লাইন সংস্কার করে ১৭ হাজার পুরাতন গ্রাহককে উন্নত সেবা দেয়া হচ্ছে।  ১৫শ কি. মি. এলাকা জুড়ে ৫০ হাজার নতুন বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে।

উপজেলার আইশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার কজে নিয়োজিত থানা পুলিশের জন্য আধুনিক ৪ তলা বিশিষ্ট থানা ভবন নির্মানে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দু তলা ভবন করা হয়েছে। অগ্নি নির্বাপক গাড়ীর ব্যবস্থা করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করেছে। ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় ৩ হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করা হয়েছে। স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে উপজেলার বেকারদের।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে বেগবান করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং কৃষি ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে। দুটি বেসরকারি ব্যাংক এখানে শাখা খুলেছে। বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ৫শ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত করে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় এমপি এড. মোসলেম উদ্দিন। একই সাথে অর্থ ও সামাজিক উন্নয়নে প্রতিটি ইউনিয়নের ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আওতায় ৭ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ১০ হাজার ৬৬ জনকে বয়স্ক ভাতা, ২৮শ ১০ জনকে বিধবা ভাতা, ৮ হাজার ১শ ৬১ জনকে অসহায় দরিদ্র মহিলা ভাতা, ১ হাজার ২৭ জনকে মাতৃত্ব ভাতা, ২ হাজার ৩শ ৯৬ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হচ্ছে। ১৮ টি এতিমখানায় ৩১২ জন এতিমকে ভাতা প্রদান, ১ হাজার গৃহহীন মানুষকে ১ লাখ টাকা করে গৃহ নির্মানের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, বধ্যভূমি, স্মৃতিস্থম্ভ এবং শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলোকে চিহিৃত করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল পরিত্যাক্ত ভবনটি সংস্কার করা হয়েছে। ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে বহুতল বিশিষ্ট একটি কমপ্লেক্স ভবন নির্মান করেছেন এমপি এড. মোসলেম উদ্দিন।  
 
১৮৬৪ সালে প্রশাসনিকভাবে ফুলবাড়ীয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু কিছু জটিলতার কারনে থানার সীমানা নির্ধারণ হয় ১৮৬৭ সালে। ১৯৮৩ সালের ০২ জুলাই ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আয়তন ৩৯৯ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গত ৯ বছরের উন্নয়ন চিত্র প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ফুলবাড়ীয়ায় এড. মোসলেম উদ্দিন এমপিকে নিয়ে গেছে বিকল্পহীন উচ্চতায়। ফুলবাড়ীয়ায় আওয়ামী লীগ এড. মোসলেম উদ্দিনে সুসংহত।


08.06.2018 | 04:48 PM | সর্বমোট ৫৭৪ বার পঠিত

দিন বদলের প্রত্যয়ে বদলে গেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

এখন পর্যন্ত যানজটের কোনো খবর পাইনি: সেতুমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সড়কের অবস্থা ভালো।...... বিস্তারিত

19.08.2018 | 02:01 PM





রাজধানী

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার প্রতি ইসলামের যা নির্দেশ

ঋণ পরিশোধ না হলে চক্রবৃদ্ধিহারে সুদের ওপর সুদ বাড়নোর প্রবণতা সমাজে সব সময়ই ছিল। তবে তা ইসলাম পূর্ব যুগে এই...... বিস্তারিত

06.07.2018 | 01:50 PM

বিনোদন

শাকিব-শ্রাবন্তীর প্রেমের গুঞ্জন

বাংলাদেশি চিত্রনায়ক শাকিব খান ও কলকাতার অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর মধ্যে সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশি শোবিজ অঙ্গনে এ নিয়ে কোনো কথা...... বিস্তারিত

14.08.2018 | 11:04 AM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ