ঢাকা অফিস

তাকওয়া অর্জন ও কুরআন নাজিলের মাস "মাহে রমাযান"মুফতি আরিফ মাহমুদ হাবিবী


.তাকওয়া অর্জন ও কুরআন নাজিলের মাস "মাহে রমাযান"
আত্মিক এবং শারীরিক উন্নতি সাধনের এক অনন্য প্রশিক্ষণ হচ্ছে সিয়াম। মানবদেহের চাহিদা অনেক বিচিত্র এবং ব্যাপকতর। পাওয়ার এবং ভোগের নেশা সর্বক্ষণ মানুষের আত্মিক অনুভূতিগুলোকে বিপর্যস্ত করে রাখে। অনুভূতিহীন করে দেয় আত্মাকে। ফলে উন্নততর মানবিক গুণগুলো অসার হয়ে পড়ে। মনুষ্যত্ব এবং মানবিকতার এ স্বভাবজাত ধ্বংসকে মোকাবেলা করে বিবেক এবং আধ্যাত্মিকতার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই রমজান মাসের সিয়াম সাধনাকে অপরিহার্য করা হয়েছে।এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। যেটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ এবং অত্যাবশ্যকীয় ফরজ ইবাদত।

সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমাযানঃ
আল্লাহ্ তায়ালার বরকত ও করুণা ধারায় আমাদের জীবনকে সিক্ত করতে পবিত্র মাহে রমজান ফিরে এলো আরেকবার। এই মাস আত্মার পরিশুদ্ধি ও পরিতৃপ্তি অর্জনের মাস, ঈমানের সংস্কার করার মাস। আত্মিক ও চারিত্রিক শক্তি ফিরিয়ে আনার মাস, নফসের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাস, কুপ্রবৃত্তিকে দমন করার মাস, সর্বোপরি মানুষ হওয়ার মাস। রমজানে অর্জিত হয় তাকওয়া, বাস্তবায়ন হয় আল্লাহর নির্দেশমালা। শাণিত হয় ইচ্ছা। অর্জিত হয় ঐক্য, মহব্বত ও ভ্রাতৃত্ব। অনুভব করে ক্ষুধার্তের ক্ষুধা। এটি ত্যাগ, বদান্যতা আর আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার মওসুম। যে ব্যক্তি রোজা রাখবে তার আত্মা পবিত্র হবে। হৃদয় নরম হবে। অনুভূতিগুলো শাণিত হবে, আচরণ বিনম্র্র হবে। এ মাসে মুসলমানেরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার অনুভূতি অর্জন করে।

রমযান মাসের ফযিলত:
১. রমযান হল কুরআন নাযিলের মাস। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ
‘‘রমযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’’ (আল-বাকারা : ১৮৫)
সিয়াম যেমন এ মাসে, কুরআনও নাযিল হয়েছে এ মাসেই। ইতিপূর্বেকার তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিলসহ যাবতীয় সকল আসমানী কিতাব এ মাহে রমযানেই নাযিল হয়েছিল। (সহীহ আল জামে)
২. এ মাসের সিয়াম পালন জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনলো, সালাত কায়েম করলো, যাকাত আদায় করলো, রমযান মাসে সিয়াম পালন করলো তার জন্য আল্লাহর ওপর সে বান্দার অধিকার হলো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া। (বুখারী)
৩. ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি রুকন হল সিয়াম। আর এ সিয়াম পালন করা হয় এ মাসেই। আল্লাহতায়ালা বলেন : হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (বাকারাহ : ১৮৩)
৪. রমযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। হাদীসে এসেছে ‘‘যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় আর জাহা্ন্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।’’ (মুসলিম)
৬. এ পুরো মাস জুড়ে দোয়া কবুল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এ রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে যে দোয়াই করে থাকে-তা মঞ্জুর হয়ে যায়।’’
৭. এ মাসে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহে রমযানে প্রতিরাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহতায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া-মুনাজাত কবুল করা হয়ে থাকে।
৮. এ মাস ক্ষমা লাভের মাস। এ মাস ক্ষমা লাভের মাস। এ মাস পাওয়ার পরও যারা তাদের আমলনামাকে পাপ-পঙ্কিলতা মুক্ত করতে পারলো না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলেছেন, ‘‘ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক যার কাছে রমযান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না।’’ (তিরমিযী)
৯. রমযান মাসে সৎ কর্মের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে কোন একটি নফল ইবাদত করলো, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরয আদায় করলো। আর রমযানে যে ব্যক্তি একটি ফরয আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরয আদায় করলো।
১০. এ মাসে একটি উমরা করলে একটি হজ্ব আদায়ের সওয়াব হয় এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ্ব আদায়ের মর্যাদা রাখে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘রমযান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ্ব আদায় করার সমতুল্য’’। (বুখারী)
১১.এ রমযান মাসের লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত অপরাপর এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সাওয়াব হয় এ মাসের ঐ এক রজনীর ইবাদতে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘‘কদরের একরাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ (জিরীল আঃ) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হয়।
১২. বিশুদ্ধ নিয়তে সিয়াম পালন করলে মন্দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আত্মিক শক্তি অর্জিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “রোযা ঢাল স্বরুপ”. একান্তভাবে আলল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার জন্য রোযা পালনকারীর জন্য বিশেষ পুরস্কার রয়েছে। একটি হাদীসে কুদসীতে এসেছে আল্লাহ বলেন : “আদম সন্তানের সকল কাজই তার নিজের জন্য, সিয়াম ব্যতীত। এটা শুধুই আমার জন্য, এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”

তাকওয়া অর্জনই সিয়ামের প্রধান উদ্দেশ্য:
পবিত্র রমযান মাসের রোযা রাখা ফরজ করার কারণ হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। আল্লাহ তায়ালা মানবকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার দাসত্ব করার জন্য তিনি বলেছেন, “আমি মানব ও জিন জাতিকে আমার দাসত্ব বা এবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি)” আর এ লক্ষ্য ঠিক রাখতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাহকে একটি গুণে গুণাম্বিত হওয়ার জন্য একাধিক স্থানে কুরআনের বানী দ্বারা সতর্ক করেছেন। সে গুণে গুণান্বিত হলে মানুষ আল্লাহর মূল সৃষ্টির যে লক্ষ্য সে লক্ষে অতিদ্রুত পৌঁছে যাবে। এর মাধ্যমে সে ইহকালীন শান্তি ও পারলৌকিক জীবনের সফলতা অর্জনে সম হবে। আর যদি সে লক্ষে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় তাহলে অবশ্যই সে আল্লাহর নিকট অবাধ্য সীমালঙ্ঘনকারী ও পাপী হিসেবে পরিগণিত হবে।
আল্লাহর নির্দেশিত ও প্রদর্শিত সে মহান গুণটি হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। যদি কারো কাছে তাকওয়া নামক গুণটি থাকে, তবে এ গুণটি তাকে সর্বদা সকল স্থানে প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর দাসত্ব, আনুগত্য ও রেযামন্দি অর্জনে প্রধান ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।

তাকওয়া পরিচিতি:
তাকওয়া আরবি শব্দ। এর বাংলা অর্থ : বিরত থাকা, আত্মরক্ষা করা, বেঁচে থাকা, বর্জন করা, পরিহার করা ইত্যাদি।

পরিভাষায় : তাকওয়া বলতে “পরকালে ক্ষতিকারক সকল কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখার নামই তাকওয়া। হযরত আলী (রা) বলেন, তাকওয়া হলো অল্পে তুষ্ট থাকা, কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী চলা এবং সর্বদা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা।
আল্লাহর ভয় ও তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যাবতীয় অপরাধ, অন্যায় ও আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ, কথা ও চিন্তা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নাম তাকওয়া।
একবার হযরত ওমর (রা)উবাই ইবনে কাব (রা)-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হে ওমর (রা)!দুই ধারে কাঁটাবন, মাঝখানে সরু পথ। এমতাবস্থায় কিভাবে চলতে হবে? তিনি বলেন,গায়ে যেন কাঁটা না লাগে,সাবধানে পথ অতিক্রম করতে হবে।হযরত উবাই ইবনে কাব (রা) বললেন, এটাই তাকাওয়া।
মোট কথা তাকওয়া হচ্ছে একটি সচেতনতা যা বান্দাহকে প্রতিমুহূর্তে কোনটি ভাল, কোনটি মন্দ তা স্পষ্ট করে উদ্ভাসিত করে দিবে।

তাকওয়ার গুরুত্বঃ
ইসলামী শরীয়তে এবং মুমীনের জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। আজকের এই পাপ পঙ্কিলতাপূর্ণ পৃথিবী,যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পাপাচার, অনাচার, শিরক, কুফর, বিদায়াত;যেখানে অক্টোপাসের মত ছড়িয়ে আছে সুদ,ঘুষ,দুর্নীতি। তাকওয়ার মাধ্যমেই একজন মুমিন এ থেকে আত্মরক্ষা করে সাবধানে জীবনের পথ অতিক্রম করতে পারে ।ইহা সকল নবী ও রাসূলদের অন্যতম গুণ এবং দাওয়াতী কাজের অংশ বিশেষ। তাই সকল নবী তাঁর উম্মতকে তাকওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ ۚ وَإِن تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدًا
বস্তুত : আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থের অধিকারীদের এবং তোমাদের যে, তোমরা সবাই ভয় করতে থাক আল্লাহকে। যদি তোমরা তা না মান, তবে জেনো, সে সব কিছুই আল্লাহ তা’য়ালার যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে ও যমীনে। আর আল্লাহ হচ্ছেন অভাবহীন, প্রসংশিত। (সূরা নিসা-১৩১)
১.হযরত নূহ (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী :
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তাদের ভাই হযরত নুহ (আ.)তাদেরকে বললেন তোমাদের কি ভয় নেই? আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।(সূরা শুয়ারা-১০৬-১০৮)
২.হযরত হুদ (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী : স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তাদের তাদের ভাই হযরত হুদ (আ.) বললেন তোমরা কি পরহেজগারী অর্জন করবেনা ? (সূরা শুয়ারা-১২৪)
৩. হযরত সালেহ (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী : স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তাদের তাদের ভাই হযরত সালেহ (আ.) বললেন তোমরা কি তাকওয়া অর্জন করবে না ? (সূরা শুয়ারা-১৪২)
৪. হযরত লুত (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী : স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তাদের তাদের ভাই হযরত লুত (আ.) বললেন তোমরা কি আল্লাহভীতি অর্জন করবেনা ? (সূরা শুয়ারা-১৬১)
৫. হযরত শুয়াইব (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী : স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তাদের হযরত শুয়াইব (আ.) বললেন তোমরা কি পরহেজগারী অর্জন করবে না ? (সূরা শুয়ারা-১৭৭)
৬. হযরত ইলিয়াস (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী : স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন হযরত ইলিয়াস (আ.) তার উম্মতকে বললেন তোমরা কি তাকওয়া অর্জন করবে না ? (সূরা আস সাফ্ফাত-১২৪)
৭. হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনের বাণী : স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন হযরত ইব্রাহীম (আ.) তার উম্মতকে বললেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাকে ভয় কর। (সূরা আনকাবুত-১৬)

মু’মীন জীবনে তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তা:
(ক) কুরআন থেকে হেদায়েত গ্রহণের জন্যঃ কুরআনের বাণী :
الم ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
আলিফ লাম মীম। এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা বাকারা-১)
(খ) আল্লাহর নিকট গুনাহ মাফের জন্যঃ আল্লাহর বাণী :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপকে সরিয়ে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান। (সূরা আনফাল-২৯)
রিযিক দানের প্রতিস্রুতিঃ(গ) কুরআনের বাণী :
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। (সূরা আত তালাক-২)
(ঘ) কঠিন কাজকে সহজতর করতেঃ আল্লাহর বাণী :
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন। (আত তালাক-৪)
(ঙ) আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্যঃ কুরআনের বাণী :
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوا وَّالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে যারা মুত্তাকি ও সৎকর্ম পরায়ণশীল। (নাহল-১২৮)
(চ) আল্লাহর নিকট সম্মানিত হওয়াঃ আল্লাহর বাণী :
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক মুত্তাকী। (সূরা হুজরাত-১৩)
(ছ) চূড়ান্ত সফলতা লাভ করা:আল্লাহর বাণী :
إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۖ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যেই নির্ধারিত রয়েছে। (সূরা আ’রাফ-১২৮)
(জ) কিয়ামতের দিন মুক্তি লাভ করা। কুরআনের বাণী :
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا
অতঃপর আমি মুত্তাকীদের উদ্ধার করব এবং জালেমদের সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব। (সূরা মরিয়ম-৭২)
(ঝ) আকাশের বরকতের দরজা উন্মুক্ত করা: আল্লাহর বাণী :
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَٰكِن كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
যদি গ্রামবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি আসমান এবং যমিনের সকল বরকতসমূহ তাদের জন্য উম্মুক্ত করে দিতাম।(সূরা আ’রাফ-৯৬)
(ঞ) আল্লাহর ভালবাসা লাভ করা। কুরআনের বাণী :
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন। (সূরা তাওবা-৪)
(ট) সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করার তৌফিক লাভ করা: আল্লাহর বাণী :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا
হে ঈমানদারগণ যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে তোমাদের ফয়সালা করে দেবেন। (সূরা আনফাল-২৯)
(ঠ) আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করা: কুরআনের বাণী :
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ
আর কেউ আল্লাহর নামযুক্ত বস্তুসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকরলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতি প্রসূত। (সূরা হজ্ব-৩২)
(ড) আল্লাহর রহমত লাভ করা: আল্লাহর বাণী :
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ ۚ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ
আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুর উপর পরিব্যাপ্ত। সুতরাং তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা ভয় রাখে, যাকাত দান করে এবং যারা আমার আয়াতসমূহের উপর বিশ্বাস রাখে। (সূরা আ’রাফ-১৫৬)
(ঢ) মুক্তি লাভ করা। কুরআনের বাণী :
إِنَّهُ مَن يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয়ই যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, আল্লাহ এহেন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। (সূরা ইউসুফ-৯০)
(ণ) দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করা। আল্লাহর বাণী :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজ অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদের দিবেন। (সূরা হাদীদ-২৮)
(ত) কিয়ামতের দিন জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে। কুরআনের বাণী :
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
আর জান্নাত মুত্তাকীদের জন্য নিকটবর্তী করা হবে। (সূরা শু’য়ারা-৯০)
(থ) মুত্তাকীদের সাহচর্য ইহকাল ও পরকাল ব্যাপী: আল্লাহর বাণী :
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ
বন্ধুবর্গ একে অপরের শত্র“ হবে, তবে মুত্তাকীরা নয়। (সূরা যুখরারফ-৬৭)
(দ) মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতে সর্বোত্তম বাড়ি: আল্লাহর বাণী :
وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ ۚ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ
এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। মুত্তাকীদের গৃহ কি চমৎকার? (সূরা আন নহল-৩০)
(ধ) চাহিদামত সব কিছু লাভ করা: কুরআনের বাণী :
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ ۚ كَذَٰلِكَ يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ
সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয়। তাদের জন্য তাতে তাই রয়েছে, যা তারা চায়। এমনিভাবে আল্লাহ মুত্তাকীদের প্রতিদান দেবেন। (সূরা আন নহল-৩১)
(ন) প্রতিপালকের নিকট যোগ্য অবস্থান লাভ করা। আল্লাহর বাণী :
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ
নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে। (সূরা কামার-৫৪)
(প) ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করা : আল্লাহর বাণী :
وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا
আর যদি তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।(আলে ইমরান-১২০)

মুসলিম চরিত্রে সাওমের কাঙ্খিত প্রভাব : রমযানের সময়কাল অনেকটা বিদ্যালয়ের মত, যে সময়টিতে শেখার মত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোন কারণে নামায ছুটে গেলে আমরা তা পরবর্তীতে আদায় করে নিতে পারি, কিংবা রোযাও পরবর্তীতে রাখতে পারি, কিন্তু রমযানের সময়টি সেরকম নয়, এ সময় যদি পার হয়ে যায় এমন অবস্থায় যে আমরা রমযানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গুলো নিতে পারলাম না, তবে তা বিরাট ক্ষতি।
(ক) আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা বা তাকওয়া সৃষ্টিঃ কুরআনের যে আয়াতে সিয়ামের আদেশ দেয়া হয়েছে, সে আয়াতেই এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে : “হে বিশ্বাসীগণ। তোমাদের জন্য সিয়াম পালনকে নির্ধারণ করা হল যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সূরা আল বাক্বারাহ, ২ : ১৮৩)
এই তাকওয়া আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা, তাঁর উপস্থিতির উপলব্ধি, এবং এটা জানা যে তিনি আমাদের দেখছেন – যা আমাদেরকে ব্যক্তিগত জীবনে উন্নততর মানুষ হতে সাহায্য করবে।
(খ) আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা
বিভিন্ন ধরনের ইবাদত প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সাথে আমাদের বন্ধন প্রতিষ্ঠার উপায়। রমযানে এই ইবাদতগুলো পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, যেন আমরা এই মাস শেষে আল্লাহর সাথে সম্পর্কের উচ্চতর স্তরে অবস্থান করতে পারি। খাদ্য ও পানীয় দেহের পুষ্টির উৎস, মনের খাদ্য হচ্ছে জ্ঞান, আর অন্তেরর প্রয়োজন হচ্ছে ঈমান এবং আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা। রমযানে অধিক ইবাদতের দ্বারা আমরা ইবাদতকে আমাদের জীবনের মৌলিক কাঠামো হিসেবে গ্রহণের শিক্ষা পাই। কুরআনে যেমনটি বলা হচ্ছে : “…নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার ত্যাগ, আমার জীবন-মরণ, জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।”(সূরা আল আনআম, ৬:১৬২)
(গ) রিয়া থেকে বাঁচা, রিয়া অত্যন্ত ভয়ানক ব্যাপার। যদি আমরা অন্যদের দেখানোর জন্য আমল করি, তবে বাহ্যত একে উত্তম আমল বলে গণ্য করা হলেও আমাদের সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে এই রিয়ার কারণে। রাসূল (সা) বলেছেন, “তোমাদের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশী ভয় করি, তা হল ছোট শিরক বা শিরক আল আসগার।” সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, ছোট শিরক কি?” তিনি উত্তর দিলেন, “রিয়া (লোক দেখানোর জন্য কাজ করা), নিশ্চয়ই আল্লাহ পুনরুত্থান দিবসে প্রতিদান দেওয়ার সময় লোকদের বলবেন, ‘পার্থিব জীবনে যাদেরকে দেখানোর জন্য তোমরা কাজ করেছিলে, তাদের কাছে যাও এবং দেখ তাদের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পার কিনা।’” (আহমাদ, বায়হাকী)। ইবন আব্বাস (রা) এ সম্পর্কে বলেন, “কোন চন্দ্রবিহীন মধ্যরাতের অন্ধকারে কালো পাথরের উপর কালো পিঁপড়ার চুপিসারে চলার চেয়েও গোপন হচ্ছে রিয়া।” (ইবন আবী হাতিম)। রোযার মাধ্যমে প্রতিটি কাজ বিশুদ্ধভাবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করার শিক্ষা হয়, কেননা প্রকৃত সিয়াম অন্যকে দেখানোর জন্য হওয়া সম্ভব নয়। কারণ সিয়ামের বিষয়টি বাহ্যিকভাবে দেখা যায় না। একটি হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ বলেন: “আদম সন্তানের সকল কাজই তার নিজের জন্য, সিয়াম ব্যতীত। এটা শুধুই আমার জন্য, এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
(ঘ) নৈতিক চরিত্র গঠন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “যে রোযা অবস্থায় মিথ্যা বলা এবং মিথ্যার ওপর আচরণ করা থেকে বিরত হল না, তার ক্ষুধা এবং তৃষ্ণায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” এ মাসে আমরা অধিক ভাল কাজ করার এবং খারাপ কাজ থেকে অধিক পরিমাণে বিরত থাকার চেষ্টা করি। আমরা খারাপ কথা ও কাজ পরিহার করি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন: “তোমাদের কেউ রোযা অবস্থায় যেন অশ্লীল কাজ ও অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকে, এবং যদি কেউ কোন অশ্লীল কথা শুরু করে কিংবা তর্ক করতে আসে, তবে সে যেন তাকে বলে: ‘আমি রোযাদার।’” তেমনি আমাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণে আনার শিক্ষা হয় এই রমযান মাসে। তাই সিয়াম আমাদের চোখ, কান, হাত ও জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার মাধ্যমে আমাদের নৈতিক চরিত্রে উন্নতি ঘটায়। আমরা যদি রোযা রেখেও হারাম কথা, কাজ কিংবা হারাম দৃশ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত বন্ধ না করি, তবে এই সিয়াম আমাদের নেক কাজের পাল্লায় যোগ না হয়ে যোগ হবে অন্যায়ের পাল্লায়, যার জন্য কিয়ামতের দিন আমাদের শাস্তি পেতে হবে।
(ঙ) এটা উপলব্ধি করা যে পরিবর্তন সম্ভব, আমরা যখন বর্তমান মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকাই, আমরা সর্বত্র দেখতে পাই নৈতিক অবক্ষয়, ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিদাত, শিরক প্রভৃতির প্রাচুর্য, মুসলিমরা ইসলাম থেকে এতই দূরে, যে কারও পক্ষে ‘কোন আশা নেই’ এ কথা বলে বসা অসম্ভব নয়। এ অবস্থার যেন ক্রমাবনতি ঘটছে। এর সমাধান হচ্ছে মুসলিমদেরকে পরিবর্তন হতে হবে, কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব? রমাযান আমাদের বলছে যে এটা সম্ভব। আমরা রমাযানের ফজরে দেখতে পাই মসজিদ পরিপূর্ণ, অথচ অন্যান্য মাসে তা ফাঁকা থাকে। যদিও এদের মাঝে কিছু লোক কেবল “রমাযান মুসলিম”, কিন্তু অনেকেই প্রকৃত ঈমানদার, যারা রমাযানে সচেতন হয়ে ওঠে। তেমনি কুরআনের ওপর জমে থাকা ধূলো সরে যায়, এবং কুরআন বেশী বেশী করে তিলাওয়াৎ করা হয়। তেমনি মানুষের চরিত্রেও পরিবর্তন দেখা যায়। হয়ত ঝগড়াটে কোন ব্যক্তি এ মাসে নিজেকে সংযত করতে শেখে। তেমনি অনেক খারাপ কাজ যা অন্য মাসে ত্যাগ করা সম্ভব হয় না, তা এই মাসে সম্ভব হয়, যেমন অনেকে ধূমপান ত্যাগ করে থাকে। তাই রমাযান আমাদের শেখায় যে মুসলিমরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে সক্ষম। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এজন্য জিহাদকে রমযানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের নফসের বিরুদ্ধে, পরিবারে, সমাজে ও বিশ্বে অবস্থিত সকল কু-শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে। একমাত্র এভাবেই পরিবর্তন আসা সম্ভব।
(চ) নিয়ন্ত্রণঃ ক্ষুধা এবং যৌন বাসনা মানুষের চরিত্রে সবচেয়ে প্রবল দুটি বাসনা। এগুলোর ফলে মানুষ বহু বড় বড় পাপকাজে জড়িয়ে পড়ে। রোযা যেহেতু খাদ্য, পানীয় এবং যৌনাচার থেকে সংযম, তাই এর মাধ্যমে রোযাদারের আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুশীলন হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “যে রোযা অবস্থায় মিথ্যা বলা এবং মিথ্যার ওপর আচরণ করা থেকে বিরত হল না, তার ক্ষুধা এবং তৃষ্ণায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” তিনি (সা) আরও বলেছেন: “তোমাদের কেউ রোযা অবস্থায় যেন অশ্লীল কাজ ও অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকে, এবং যদি কেউ কোন অশ্লীল কথা শুরু করে কিংবা তর্ক করতে আসে, তবে সে যেন তাকে বলে: ‘আমি রোযাদার।’” তাই উপরোক্ত দিক নির্দেশনা মেনে যে রোযা রাখবে, তার নৈতিক চরিত্রে উন্নতি ঘটবে, সে অধিকতর সত্যবাদী এবং কথা ও কাজে আরও সতর্ক হবে।
(ছ)সহমর্মিতা, রোযা একজন মানুষকে ক্ষুধা এবং তৃষ্ণার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করায়, ফলে সে দরিদ্রের অবস্থা বুঝতে পারে। এর ফলে তার মাঝে দরিদ্রকে সহায়তা করার এবং তাদেরকে নিজ সম্পদের ভাগ দেয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। আর এই চেতনার নমুনা হিসেবেই ঈদুল ফিতরের দিনে অভাবীকে নির্দিষ্ট পরিমাণে দান করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর যখন আমরা উপলব্ধি করব যে আমাদের এই কষ্ট ইচ্ছাকৃত, কিন্তু দরিদ্রদের কষ্ট অনিচ্ছাকৃত, তারা চাইলেও খেতে পায় না, তখন আমরা অধিকতর সহমর্মিতা অর্জন করতে পারব।

মাহে রমাযানের শ্রেষ্ঠ উপহার মহাগ্রন্থ আল কুরআনঃ
মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিশা দেয়ার জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীন এর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এ উপহারটি হচ্ছে পরশ পাথর। এর কারণেই আল্লাহ তায়ালা রমযান মাসের মর্যাদা দান করেছেন এবং যে রাতে এই কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে সেই রাতটিও হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যেই ব্যক্তির উপর এই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব।
কুরআনের পরিচয় : কুরআন শব্দটি দুটি শব্দ কারনুন ও কারউন হতে এসেছে। কারনুন অর্থ মিলানো। আর কারউন অর্থ পঠিত কিতাব। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, কুরআন মাজীদ সব কিতাবের মধ্যে সর্বাধীক পঠিত কিতাব। তাছাড়া এর মধ্যে সূরা, আয়াত এবং অক্ষরগুলো মিলানো হয়েছে।
পরিভাষায়, কোরআন আল্লাহর নাযিলকৃত ঐ কিতাবকে বলা হয়, যা তিনি তার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপরে দীর্ঘ তেইশ বৎসর কালব্যাপী বিভিন্ন পর্যায়ে, প্রয়োজন মোতাবেক অল্প অল্প করে অবতীর্ন করেছিলেন। ভাষা এবং ভাব উভয় দিক হতেই কোরআন আল্লাহর কিতাব। অর্থাৎ কোরআনের ভাব (অর্থ) যেমন আল্লাহর তরফ হতে আগত তেমনি তার ভাষাও।
কুরআনের আলোকে কুরআনের সংজ্ঞা : কুরআনের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ বলেন ,
وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ۞ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ۞ عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ۞ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ۞
এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা (জিবরাইল আ:) তা নিয়ে অবতরণ করেছে। আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন| আর এটা নাযিল করা হয়েছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।(সূরা আশ-শুয়ারা : ১৯২-১৯৫)
কুরআন দেয় নিজের পরিচয়:
কুরআন সকল রোগের প্রতিষেধক এবং বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপঃ আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেনঃ وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِين “আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের প্রতিষেধক এবং মুমিনদের জন্য রহমত।” (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৮২)
সত্যের দিশারী এবং আলোকবর্তীকাঃ আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ “এই কুরআন দ্বারা আল্লাহ তা’য়ালা যারা তাঁর সন্তষ্টি কামনা করে তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন এবং তাদেরকে প্রদান করেন সরল-সোজা পথের দিশা।” (সূরা মায়িদাহঃ ১৬)
সত্য পথের পথিকদের মহাপুরস্কারের শুভ সংবাদ দেয় কুরআনঃ ইরশাদ হচ্ছেঃ “আল্লাহ এ(জান্নাতেরই) শুভ সংবাদ প্রদান করে সে সব বান্দাকে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। শুধু চাই আত্মীয়তাজনিত সৌহার্দ্য। কেউ উত্তম কাজ করলে আমি তার সোয়াব বৃদ্ধি করে দেই। আল্লাহ তো ক্ষমাকারী এবং গুণগ্রাহী।” (সূরা শূরাঃ ২৩)
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রজ্ঞার আধার: আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন:ذَلِكَ نَتْلُوهُ عَلَيْكَ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيم
“আমি তোমাদেরকে এসমস্ত আয়াত এবং বিজ্ঞানময় উপদেশ বানী পড়ে শুনাই। (সূরা আলে ইমরান: ৫৮)
আত্বা ও জীবনের স্পন্দনঃ আল্লাহ বলেনঃ وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا “এমনিভাবে আমি আমার নির্দেশক্রমে তোমার নিকট আত্মা সঞ্চারকারী বিষয় প্রেরণ করেছি। (সূরা শুরাঃ ৫২)
সব কিছুর নির্ভুল তথ্য ও জ্ঞান দান করে আল কুরআন: আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, “আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখি দু ডানা যোগে উড়ে বেড়ায় তারা তোমাদের মতই একেকটা জাতি। এই গ্রন্থে আমি কোন কিছুই লিখতে বাদ দেই নি। পরিশেষে সবাই তাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে আসবে।” (সূরা আনআমঃ ৩৮)
আল্লাহ নিজেই কুরআনের শপথ করে বলেছেন, তা অতি মর্যাদাবানঃ তিনি বলেনঃق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيد “ক্বাফ। শপথ এই মর্যাদাবান কুরআনের। (সূরা ক্বাফঃ ১)
আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাদেরকে কুরআন নিয়ে গবেষণা করার নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন, যারা তা করে না তারা অন্ধ এবং বদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী। তিনি বলেন: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا
“তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করে না? না তাদের অন্তর তালাবন্ধ?” (সূরা মুহাম্মাদঃ ২৪)
এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, কুরআনের সম্মান কত বেশি! কুরআন পাঠ করা, মুখস্থ করা, কুরআন নিয়ে গবেষণা করা, কুরআনের অর্থও মর্মবাণী উপলব্ধি করার চেষ্টা করা, একে নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করার মর্যাদা কত উন্নত!

কুরআনের নাম ও সিফাতসমূহ : পবিত্র কুরআনুল কারীমের নাম ৯০ এর অধিক বলে কোন কোন আলিম বর্ণনা করেছেন। তবে আল্লামা মুহাম্মদ তকী ওসমানী (র:) এর মতে, প্রকৃতপক্ষে কুরআন মাজিদের নাম পাঁচটি বলে উল্লেখ করেন। যথা :
ক. আল কুরআন: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا ۞
এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয়
যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে। (সূরা আল ইসরা-৯)
খ. আল কিতাব : আল্লাহ তায়ালা বলেন
,
لَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ۞
আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবর্তীর্ণ করেছি; এতে তোমাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে। তোমরা কি
বোঝ না? (সূরা আম্বিয়া-১০)
গ. আল ফুরকান: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَىٰ عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا۞
পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ (ফুরকান) অবর্তীণ করেছেন, যাতে সে
বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হয়।(সূরা আল ফুরকান-১)
ঘ. আয যিকর: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ۞
আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
ঙ. আত তানযীল: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ۞
এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।(সূরা আশ-শুয়ারা : ১৯২)

কুরআন নাযিলের সময় :
পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন দু’টি পর্যায়ে অবতীর্ণ হয় :
(ক) লাওহে মাহফুজ থেকে লায়লাতুল কদরে পূর্ণ কুরআন একসাথে দুনিয়ার আকাশে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন ,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ ۞
রমযান মাসই হল সে মাস,যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন| (সূরা বাকারা-১৮৫)
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ۞
আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে,নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। (সূরা দুখান-৫)

সুতরাং, আসুন তাকওয়ার এ মাসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করি ও মহা গ্রন্থ আল কুরআন তিলাওয়াতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করি।।

-----------

মুফতি আরিফ মাহমুদ হাবিবী

০১৭১৫২৯১৬৩৫

16.05.2019 | 09:06 AM | সর্বমোট ৬৩৩ বার পঠিত

তাকওয়া অর্জন ও কুরআন নাজিলের মাস "মাহে রমাযান"মুফতি আরিফ মাহমুদ হাবিবী" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

৪১তম বিসিএস ‘বিশেষ’ হচ্ছে না

সরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার আয়োজনের কথা থাকলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।...... বিস্তারিত

21.08.2019 | 06:28 PM



রাজধানী

চট্টগ্রাম

এশিয়ান পেপার মিলের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী দূষণের দায়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাট এলাকার এশিয়ান পেপার মিলস (প্রা.) লিমিটেড কারখানার...... বিস্তারিত

18.08.2019 | 03:26 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

পাপ মোচনের মাধ্যমেই শেষ হয় হজের আনুষ্ঠানিকতা

হজ ইসলামের পঞ্চম রোকন। বিশ্ব মুসলিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রত্যেক আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্যবানের ওপর হজ ফরজ। একজন হাজীকে আল্লাহ...... বিস্তারিত

11.08.2019 | 07:50 PM

বিনোদন

এবার মাহির ‘রঙিলা বেবি ’

‘ম্যাজিক মামনি’ আইটেম গানটি ছিল মাহির সবচেয়ে আলোচিত গান। এরপর কয়েক মাস আগে ‘অন্ধকার জগত’ ছবির একটি গানে পারফর্ম করে...... বিস্তারিত

20.08.2019 | 10:02 PM


সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস


ভিডিও সংবাদ