নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

নিজামপুর কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসংখ্য দূর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই উপজেলার নিজামপুর পরগনার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কলেজ হচ্ছে নিজামপুর সরকারী কলেজ। ১৯৬৪ সাল থেকে এই কলেজের কার্যক্রম সুনামের সাথে চলে আসছে। ২০১৪ সালে মো. রফিক উদ্দিন এই সুনামধন্য কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার পর থেকে কলেজ শিক্ষকদের প্রতি জুলুম, নির্যাতন ও শিক্ষার্থীদের প্রতি হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌছায় এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে জানান সকল শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। 
 অদৃশ্য খুটির জোড়ে অধ্যক্ষ রফিক উদ্দিন কলেজের শিক্ষকদের যথাসময়ে তাদের মাসিক বেতন দিতে গড়িমসি, প্রাপ্র্য ইনক্রিমেন্ট কম দেয়া বা কর্তন করা, শিক্ষকদের পে-স্কেল বন্ধ করে দিয়ে শুধু নিজের পে-স্কেলের সুবিধা গ্রহন, কলেজের ব্যাংক হিসাব সভাপতি ও অধ্যক্ষ্যের স্বাক্ষরিত পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা অমান্য করে ধরাকে সরা জ্ঞান করে তার নিজ নামে সোনালী ব্যাংক নিজামপুর শাখায় ৩৬০০০৪৯ নং হিসাব খোলে সেই হিসাবেই ইচ্ছেমতো সময়ে সকল টাকা লেনদেন করেন। যার ফলে তার স্বেচ্চাচারিতার শিকার হন ভুক্তভোগী পরিশ্রমী শিক্ষকরা। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্চাচারিতা, ছাত্রছাত্রিদের থেকে ফরম ও  ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি গ্রহন, শিক্ষকদের সাথে র্দূব্যবহার, উত্তোলিত টাকা জমা না দিয়ে আতœসাৎ। সকল শিক্ষকদের ঘরের গৃহপালিত কর্মচারী মনে করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান।
তারা বলেন, যারা দীর্ঘ বছর শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন তাদের জন্য ৫ বছর, ১০ বছর বা তার উর্ধ্বে কর্মরত শিক্ষকদের মুল বেতনের ৩০%, ৩২% ও ৩৫% করে অবসর গ্রহনের সময় পর্যন্ত কলেজ ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের প্রাপ্য না দিয়ে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদানের পর থেকে নিয়ম বর্হিভূত সেই সুবিধা ৩৫% করে নিজেই গ্রহন ও ভোগ করে যাচ্ছেন। কলেজে নিয়মিত না আসলেও টিএ/ডিএ ও আপ্যায়ন বিলের নামে ভূয়া ভাউচার বানিয়ে নিয়মিত কলেজের টাকা আতœসাৎ করে যাচ্ছেন। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে জেনারেল ও একাদশ শ্রেনীর ভর্তি ফরম বাবদ প্রতিটি ১০০/-একশত টাকা নিয়ে বিনা রশিদে বিক্রি করে মোট এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা এবং ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ফরম বাবদ অর্জিত এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা সহ মোট দুই লক্ষ সত্তর হাজার টাকা কলেজ তহবিলে জমা না দিয়ে নিজে আতœসাৎ করেছেন।  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিক বিদিক শূণ্য হয়ে ঘুরছে বিভিন্ন প্রশাসনের দরজায়। তবু টলানো যায়না তার প্রভাবকে। শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে তার অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কোন অদৃশ্য কারনে কোনরুপ প্রতিকার পাননি। এতে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করায় পাঠদানে স্বতঃপূর্তভাবে মন দিতে পারছেনা কর্মরত শিক্ষকরা। তার সকল স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে কলেজের সকল শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও দূর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে অভিযোগ করে আসছেন। তাতেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। তাই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও কলেজের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে ঐতিহ্যবাহী নিজামপুর কলেজটি তার দীর্ঘদিনের সুনামের ঐতিহ্য হারাচ্ছে বলে জানান।
এই বিষয়ে কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিয়াখান সাহেব বলেন, বর্তমানে বিগত গভর্নিং বডি বিলূপ্ত হলেও সেই গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের নির্দিষ্ট ভাতার উপর বর্ধিত ইনক্রিমেন্ট পেতে পারি। অথচ আমরা তা পাচ্ছিনা। শুধু তাই নয়, এখনো  আমরা ২০০৯ সালের জাতিয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা পাচ্ছি, ২০১৫ সালের জাতিয় স্কেল অনুযায়ী হলে আমাদের ন্যায্য বেতন ভাতা আরো বেশী পেতাম। আমরা ভাতার উপর যে ইনক্রিমেন্টটা পাচ্ছিনা ওনি(অধ্যক্ষ) কিন্তু বিভিন্ন পলিসি করে ঠিকই নিজের ইনক্রিমেন্টটা নিয়ে নিচ্ছেন।
বাংলা বিভাগের সারওয়াত নাজনীন বলেন,  আমরা পে- স্কেল অনুযায়ী ন্যায্য বেতন পাচিছনা। ২০১৫ সালের পে-স্কেলের বেতনের সাথে আমাদের ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র অধ্যক্ষের সদিচ্ছার অভাবে আমরা এখনো ২০০৯ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাচ্ছি। শুধু তাই নয় আমরা আমাদের অনেক ন্যায্য অধিকার পাচ্ছিনা। আমরা মাতৃত্বকালীন, আপনজন মৃত্যু কালীণ বা ন্যায্য ছুটিও পাচ্ছিনা। উনি অনেকটা জমিদার প্রথার মতো কলেজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থিদের থেকে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছেন এই জন্য শিক্ষার্থীরাও রিসিভ সহ অভিযোগ করেছে। তাকে কেউ কিছু বলতে পারছিনা। আমাদের সাথে খুব র্দুব্যবহার করেন। তবু আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। উনি শুধু আমাদের সাথে নয় ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সাথেও অনেক খারাপ ব্যবহার করেন। অধ্যক্ষ সাহেব শুধু নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে যাচ্ছেন। বলতে গেলে কলেজে এখন এক অরাজক পরিস্থিতি চলছে।
দর্শন বিভাগের নিহারিকা কুহিনুর বলেন, খাতা কাটা বাবদ একটা সম্মানি ভাতা পাই তাও তিনি দেননা, পরীক্ষা হল পরিদর্শনে যে ভাতা পেতাম তাও দিবেননা বলছেন। কোচিং পড়ানোর পর ছাত্র উন্নয়ন ভাতাটাও আমাদের দিবেন না। উনার উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে আমরা ২০৯৯সালে যোগদান করা কয়েকজন শিক্ষক প্রায় ১১ হাজার টাকা করে কম পাচ্ছি। অথচ তিনি একটি কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে উনার মেয়ের বিয়েতে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা খরচ করেন, যা তিনি গর্বের সাথে বলে বেড়ান, এতো টাকা তিনি কোথায় পেলেন তা আমাদের অবাক করে।
এ বিষয়ে মিরশ^রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে দুদক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত রিপোর্ট এলে অভিযোগের বিষয়গুলো পরিস্কার হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ রফিক উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলি। আমি সরকারের নিয়মের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেই না বা নিতে পারিনা। আর পে-স্কেলের বিষয়টা আমার নয়। কলেজ ভাতার বিষয়েও গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সুবিধা গ্রহন বা দেয়া যায়না। আর শিক্ষার্থীদের থেকে কোন অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়না। আর আমি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে কলেজের স্বার্থ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করি। এতে কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাতে কিছু যায় আসেনা। আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ করেছে সবই বানোয়াট।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী বলেন, নিজামপুর কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি, আমরা জেলা প্রশাসনে তদন্তের জন্য দিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্র্ই অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। বর্তমানে তা তদন্তনাধীন।

17.02.2020 | 06:21 PM | সর্বমোট ৩৪৭ বার পঠিত

নিজামপুর কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসংখ্য দূর্নীতির অভিযোগ" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

দুঃসময়ে উদার সাহসীদের জন্য শ্রদ্ধা

করোনা-সংকটে লড়ছে সবাই৷ তবে কিছু মানুষ সাধারণের চেয়ে অনেক আলাদা৷ এই মহাসংকটে তারা শুধু নিজের কথা ভাবছেন না, ভাবছেন অন্যদের...... বিস্তারিত

02.04.2020 | 09:08 AM




রাজধানী

চট্টগ্রাম

রামগড়ে কর্মচ্যুত পরিবারের নিকট খাদ্যসামগ্রী বিতরন অব্যাহত।

রামগড়ে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কর্ম থেকে সরে যাওয়া মানুষগুলি যখন কর্মবন্চিত হয়ে পড়েছে তখন করোনা সংক্রমণের নিয়ম মেনে সরকারী সহায়তায়  অভাবী...... বিস্তারিত

01.04.2020 | 07:17 PM


ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

মুক্তির পথ তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া ও দান

পৃথিবীতে যা কিছু হয় আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়। রোগবালাই, মহামারি সবই আল্লাহর হুকুমে আসে। আবার তার হুকুমেই নিরাময় হয়। এ...... বিস্তারিত

31.03.2020 | 02:19 PM

বিনোদন

​‘অনুদান দিলেই ক্যামেরার সামনে বলতে হবে কেন’

করোনা সংকট মোকাবিলায় ভারতীয় তারকাদের সরকারের তহবিলে অনুদান দেখছে পুরো বিশ্ব। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় অনন্য নজির গড়েছেন অক্ষয়, প্রভাস, সালমান...... বিস্তারিত

02.04.2020 | 09:35 AM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত


অতিথি কলাম


সাক্ষাৎকার


অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস


ভিডিও সংবাদ